🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

আফসানা হত্যাকাণ্ড : সিসিটিভিতে হাসপাতালে আনার দৃশ্য, কাবিননামা উদ্ধারের দাবি


❏ বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর – মিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী এবং ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুর ঘটনায় আল হেলাল হাসপাতালের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে সনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে আফসানার রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর প্রেমিক ও ছাত্রলীগ নেতা রবিনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ তোলে আফসানার স্বজনরা। মিরপুরের আল-হেলাল হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক আফসানার নিথর দেহ রেখে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন রবিন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। স্বজনরা আফসানার লাশ পাওয়ার পর তাদেরকে ‘সমঝোতার’ প্রস্তাব দেওয়া হয় রবিনের পক্ষ থেকে। তাই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে জোরালো দাবি আফসানার স্বজন, সহপাঠী ও সহকর্মীদের। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের নেতা রবিনকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের ন্যূনতম উদ্যোগ নেয়নি কাফরুল থানা পুলিশ। আটক করা হয়নি তার কোনো সহযোগীকে। গত এক সপ্তাহ প্রকাশ্যে ঘুরে রবিন ও তার সহযোগীরা আফসানার স্বজনদের ‘বাড়াবাড়ি’ না করার হুমকি দিয়েছে।

ময়না তদন্তে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, আফসানার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন তারা। তবে স্বজনদের দাবি আফসানাকে খুন করা হয়েছে। ১৩ আগস্ট মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতালে আফসানাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

afsana

এদিকে আফসানার মামা হাসানুজ্জামান এবং পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিন ও নিহত ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌসের বিয়ের কাবিননামা পাওয়া গেছে। ওই কাবিননামা এখন কাফরুল থানা পুলিশের হাতে।

অন্যদিকে আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুকে ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে যে তথ্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। তবে চিকিৎসকের এ দাবিকে ‘বানোয়াট’ উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন আফসানার স্বজনরা।

আফসানার মামা হাসানুজ্জামান বলেন, আফসানা যদি আত্মহত্যা করে থাকেন তাহলে কেন নিজের ঘর ছেড়ে অন্যের ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করল? যে দুই ছেলে আফসানাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল তারা কোথায় গেল?

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে রবিনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ সেই রবিন কোথায়? কেন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ কেন তার বিষয়ে কিছু বলছে না? আফসানা যদি আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করল কেন? এলাকাবাসী ওই চিৎকার শুনেছে।

হাসানুজ্জামান আরও বলেন, আফসানা ও রবিন ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। কারও স্ত্রী মারা গেলে বা আত্মহত্যা করলে স্বামী থাকবে পাগলপ্রায়। তা না করে হাসপাতালে লাশ ফেলে রবিন পালালো কেন? এখনো তার হদিস মিলছে না কেন? তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর রবিন সন্দেহজনক আচরণ করেছে। আমাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে। আমরা সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় রবিন গা-ডাকা দিয়েছে। এসব কারণে স্পষ্ট যে, আফসানাকে হত্যা করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আফসানার মামা বলেন, ‘শিগগিরই হত্যা মামলা দায়ের করব। হত্যা মামলা দায়ের করতে যেহেতু দেরি হয়েই গেছে, তাই এমনভাবে মামলা করতে চাই যেন আসামিরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে না পারে। এ নিয়ে অ্যাডভোকেট ও স্বজনদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।’

জানত চাইলে কাফরুল থানার ওসি শিকদার শামীম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। তদন্ত শেষে বিষয়টি মিডিয়ার কাছে খোলাসা করা হবে। মামলার তদন্ত কর্মকরর্তা ফজলুর রহমান একই ধরনের তথ্য দিয়ে বলেন, রবিনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়া গেলে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা জানা যাবে। এর আগে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে রোবার সকালে ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের মো. সফিউজ্জামান আফসানার মৃত্যু ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে গণমাধ্যমকে জানায়।

এ বিষয়ে আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী বলেন, ‘ডাক্তারের বক্তব্যে আমরা হতভম্ভ। আমি বিশ্বাস করি না যে, আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সাজানো হচ্ছে বলে আশংকা করছি।’

সিসিটিভির ফুটেজে আফসানার নিথর দেহ হাসপাতালে আনার সেই দৃশ্য দেখতে এখানে ক্লিক করুণ

আফসানার পরিবারের অভিযোগ, রবিনকে রক্ষার চেষ্টা করছে একটি মহল। আফসানার মানিকদির বাসার প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, আফসানা ও রবিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। তবে বিষয়টি আফসানার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকে জানতো না।

আফসানা মিরপুরের শেওড়াপাড়ার সাইক পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৩ আগস্ট বিকালে দুজন যুবক সিএনজিতে করে তার লাশ মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ সময় জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তির জন্য স্ট্রেচার নিয়ে আনতে বললে তারা সিএনজির ভাড়া মেটাতে যাচ্ছে বলে সরে পড়ে। পরে হাসপাতাল থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার গলায় কালো রঙের একটি গভীর দাগ দেখা যায়। ওইদিন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আফসানার মৃত্যু হয়েছে।