🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে উপকূলের সবুজ বেস্টনী ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল


❏ বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: কুয়াকাটা মানেই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, বেলাভূমিতে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দৃশ্য অবলোকন আর সবুজ প্রকৃতির সানিধ্যে থাকা। তাই পর্যটকদের বিনোদনে সৈকত ঘেঁষে গড়ে তোলা হয় গাছপালার সবুজের প্রাচীর কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান। রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। সূর্যোদয় ও সূর্য়াস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকনের পাশাপাশি প্রকৃতির আস্বাদনে পর্যটকরা ছুটে যান এ জাতীয় উদ্যান ও সবুজ বেস্টনির সানিধ্যে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমান্বয়ে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ উদ্যান ও উপকূলের সবুজ বেস্টনী ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল।

upkul

পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা কুয়াকাটা, খাজুরা ও গঙ্গামতিতে ১৯৫৫ ইং সাল থেকে বনায়নের কাজ শুরু করে বন বিভাগ। পর্যটন বিবেচনায় ১৯৯৭ ইং সালে কুয়াকাটা সী-বিচে ১৫ হেক্টর জমিতে গড়ে তোলে ঝাউ বাগান। পর্যটকদের বিনোদন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমনে উদ্যান অভ্যান্তরে নির্মান করা হয় পাকা সড়ক, পিকনিক স্পট, গোলঘর, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, বনাঞ্চলে প্রবাহিত খাল ও লেকের উপড় দৃস্টি নন্দন সেতু।

আর ২০১০ ইং সালে উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পর্যটন সুবিধ উন্নয়নের লক্ষ্যে ঝাউ বন সহ ১৬১৩ হেক্টর বনাঞ্চলকে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানর রুপান্তরিত করা হয়। এর একপাশে রয়েছে বিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল গঙ্গামতি, বাউলিবন, লেম্বুরচর, বৃক্ষপ্রেমী ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সবুজ বেস্টনীর এ উদ্যান ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির গাছপালা ও পশু-পাখির প্রতিনিয়ত বিচরণ। এখানকার অনেক গাছ, বণ্যপ্রাণী আই.ইউ.সি.এন এর তালিকা অনুসারে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পর্যটকরা এখানে খুঁজে পান প্রকৃতির অপার স্বাদ।

এসব বনাঞ্চলে রয়েছে কেওড়া, বাইন, পশুর, কাঁকড়া, ঝাউ, আকাশমনি, কড়ই, জাম, মেহগিনি, শিমুল, তেতুল, ছাতিয়ান, অর্জুন, নিম, কদম, ছন, মান্দার, হিজল, বাঁশ, বট, সোনালু, আসাম লতা, স্বর্ণলতা, নারিকেল, তাল, খেজুর, আমলকি, উরিআম, পেয়ারা, গোলপাতা সহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ-গাছড়া। রয়েছে বানর, শুকর, সজারু, শিয়াল, বাদুর, বেজি, চামচিকা, গুইসাপ, কাঠবিড়ালী, অজগর সাপ, হলদে পাখি, বাবুই, পেঁচা, বউ কথা কও, চিল, শালিক, শ্যামা, টুনটুনি, ঘুঘু, মাছরাঙা, সাদাবক, ডাহুক, দোয়েল, বুলবুলি ইত্যাদি সহ অসংখ্য প্রজাতির বণ্যপ্রাণী রয়েছে।

সিডর, আইলা, মহাসেনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিরিক্ত লবনাক্ততা বৃদ্ধি, পানির অস্বাভাবিক উচ্চতা ও প্রবল ঢেউয়ে সৈকতের বালুর স্তর মাত্রাতিরিক্ত নেমে যাওয়ায় ক্রমেই সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান সহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। বের হয়ে এসছে অনেক গাছের শিকড়। খাদ্য সংগ্রহ করতে না পারায় মরে যাচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ। বনাঞ্চল সহ যে স্থাপনা আছে তাও বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়।

মহিপুর রেঞ্জ অফিসার এস এম শামসুদ্দোহা জানান, বনায়নের শুরু থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে ৬০ লাখ লবণসহিষ্ণু ও লবণ অসহিষ্ণু গাছ লাগানো হয়। অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও অস্বাভাবিক উচ্চতার ঢেউয়ে অঘাতে বনাঞ্চলের সৃজিত গাছের প্রায় ১০ লাখ গাছ ইতমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। বনে জলাবদ্ধতার কারণে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে শুকনো ডালপালা সহ দাঁড়িয়ে রয়েছে লবণ অসহিষ্ণু ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু প্রায় ১০ হাজার গাছ।

সাগরের কোল ঘেসে গড়ে তোলা সবুজের এ বেস্টনী কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের যেমন অপার আনন্দ দিচ্ছে তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করছে উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ। সবুজের এ বেস্টনী রক্ষায় সরকার ও বনবিভাগ দ্রুত এগিয়ে আসবে এবং কার্যকরী উদ্যেগ গ্রহন করবে এমন প্রত্যাশা সবার।