🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

প্রচন্ড গরমে রাতে লোডশেডিং : ঘুম নেই নবীগঞ্জবাসীর


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৬ দেশের খবর, সিলেট

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: “সাংবাদিক সাব পল্লী বিদ্যুৎ নিয়া কিছু লেখা লেখি করইন, এতো গরমের মাঝে লোডশেডিং রাত ঘুম আয়না” আজ বৃহস্পতিবার রাত ২টার সময় এ প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এমন কথা বলছিলেন এক গ্রাহক। কারন শহর থেকে গ্রামে সর্বত্রই লোডশেডিং। প্রচন্ড দাবদাহে এমন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলার কয়েক লক্ষাধীক সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং যেন ঘুম কেড়ে নিয়েছে নবীগঞ্জের বাসিন্দাদের।

birdut

উপজেলা সদরের অফিস পাড়াতেও স্বাভাবিক কাজ কর্ম ব্যাহত হচ্ছে। গেল কয়েক মাস লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম হলেও গত ২ মাস ধরে তা মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে দিনে গোসলের পানি জোগানোও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র গত দুই মাস ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে আড়াই ঘন্টা লোডশেডিং করা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নবীগঞ্জ উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন সহ দিনারপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। দিনের অধিকাংশ সময় লোডশেডিং করা হলেও রাতেও একই অবস্থা। স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ কারো যেন এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই ? এমন অভিযোগ গ্রাহকদের। আইন শৃংখলা মিটিং এ এনিয়ে একাধীক দিন আলাপ হলেও যেন কানওয়ালা কর্তাবাবু ডিজিএম এর কানে ডুকছেনা এতোসব অভিযোগ। যদিও ডিজিএমকে কল দিলে থাকছে প্রতিদিনের মতো একই মুখস্ত বক্তব্য।

নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এমন ভেলকীবাজী ও অব্যবস্থাপনা এবং স্বোচ্ছাচারিতার কারনে সাধারন গ্রাহকদের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের প্রতি তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। যেকোন সময় সাধারন গ্রাহকরা ফুঁসে উঠতে পারেন। পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। ইতি মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল স্বারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

জানা যায়, হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে নবীগঞ্জ উপজেলা ৩ শত ৫৫ টি গ্রামে প্রতিদিনই অসংখ্যবার বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হয়। এতে করে একদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়ায় বিরাট ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে সাংবাদিক, সাধারন ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য শ্রেনী পেশার মানুষ পড়েছেন বিপাকে। একদিন দু‘দিন নয় পল্লী বিদ্যুতের ভেলকীবাজী, অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতা এখন নবীগঞ্জের মানুষের নিয়মিত সমস্যায় পরিনত হয়েছে। সুস্পষ্ট কোন কারন ছাড়াই প্রতিদিন বিদ্যুতের এমন ভেলকীবাজী লুকোচুরি খেলায় জনমনে বাড়ছে মারাত্মক ক্ষোভ। এ জন্য কর্তৃপক্ষে উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা ও মান্দাতা আমলের বিদ্যুৎ বিতরন ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। কোন কোন সময় এক মিনিটের ব্যবধানে দুই থেকে তিন বার ঘটে এমন ভেলকীবাজীর ঘটনা। অনেক ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত মেশিন বন্ধ থাকে এবং লোডশেডিংয়ের কারনে নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অফিস সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্না বলেন, ভোর বেলায় বিদ্যুৎ গেলে বেলা ১১/১২ টায় আসে। এ সময় বাসা-বাড়িতে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। এতে গৃহস্থালি কাজে গৃহিনীদের মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকেই ভূগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট সময়ে সংবাদ প্রেরনে সমস্যা হয়। মুন্না আরো বলেন, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অনন্ত ২০ বার লোডশেডিং করা হয়েছে। সারারাত নবীগঞ্জ উপজেলার মানুষ তীব্র গরমে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। এ জন্য আন্দোলনের জন্য গ্রাহকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ রকম অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, দিন-রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায়না।

এ দিকে উপজেয়ায় বিদ্যুৎ নির্ভর ওয়ার্কসপ, মটর গ্যারেজসহ কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের অভাবে তাদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। দৈনন্দিন সংসার খরচ চালাতেই তারা এখন হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়াও বিদ্যুতের কারণে উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠিকমতো পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।

লিমন চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী জানান, দু মাস ধরে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে ১০-১১টার দিকে বিদ্যুৎ এসে ঘণ্টাখানেক থেকে আবার চলে যাচ্ছে। মুঠোফোন, ল্যাপটপ পর্যন্ত ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না।

তামান্না নামের এক কলেজ ছাত্রী জানান, “প্রচন্ড গরমের মাঝে লেখাপড়া করা যায় না। বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। এই আসে আবার চলে যায়। যে সময়টুকু আমরা পড়ালেখা করব যে সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। আর এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের লেখাপড়ার খুব ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া এতো গরমে অতিরিক্ত লোডশেডিং যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ভজন কুমার বর্মন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, গতকাল সন্ধায় কিছু সময় লোড শেডিং হয়েছে। রাতে বিদ্যুৎ থাকার কারণ দেখাম- চন্দলপুর এলাকায় ডিস এর লাই বিদ্যুতের হাই বল্ডিজ লাইন এক হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি এ সমস্যা সমাধানে সারা রাত কাজ করতে হয়েছে বলেও জানান ডিজিএম। এদিকে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এর এমন বক্তব্যকে বানোয়াট বলেও মন্তব্য করছেন সাধারন গ্রাহকরা।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং সহ দিনে রাতে বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা বড় সমস্যায় আছি। দিনে অফিসে বিদ্যুৎ না থাকলে প্রশাসনিক কাজ করতেও পড়তে হয় নানা বিপাকে। তাছাড়া পচন্ড গরমের মধ্যে রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করা হলেও ঘুম আসেনা। রাতে বাসায় বিদ্যুৎ থাকেনা এযেন ভয়াবহ অবস্থা। পচন্ড গরমে প্রতিদিন রাতে লোডশেডিং হলে ভাল মানুষ অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ২/১ দিনের মধ্যেই পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমসহ তাদের টিমকে নিয়ে আমি বসবো, আমি দেখবো তাদের সমস্যা কোথায় এবং কেন তারা এতো লোডশেডিং করছে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু একটি শালিস বিচারে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।