🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ভাড়া নেই, শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে হাঁটলেন স্বামী!


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু ৬০ কিলোমিটার দূরে গ্রামের বাড়িতে স্ত্রীর দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও গাড়ি দেয় নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই পাশে ১২ বছর বয়সী মেয়ে আর কাঁধে স্ত্রীর চাদর মোড়া মৃতদেহ নিয়ে হেঁটেই গ্রামে ফিরছিলেন দানা মাঝি।tMy27z3k6BM0ভারতের সব থেকে পিছিয়ে পড়া এবং দরিদ্রতম জেলাগুলির একটা উড়িষ্যার কালাহান্ডির বাসিন্দা মি. মাঝি। দশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাঁর গ্রাম আরও ৫০ কিলোমিটার দূরে।

এমন সময়ে স্থানীয় একটি টি ভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা দেখতে পান মৃতদেহ কাঁধে এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছেন, পাশে একটি বাচ্চা মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটছে। ওই সাংবাদিকদের কাছ থেকেই গোটা ঘটনা জানা গেছে। ওড়িশার সংবাদমাধ্যম তো বটেই, ভারতের জাতীয় গণমাধ্যমগুলিও এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দিয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে।

দীর্ঘদিন যক্ষায় ভোগার পর বুধবার জেলা হাসপাতালে মৃত্যু হয় দানা মাঝির স্ত্রীর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৃতদেহটি বাড়িতে পৌঁছে দিতে বললে টাকা চেয়ে বসে তারা। কিন্তু আর্থিক সামর্থ না থাকায় তা দিতে পারেননি দানা মাঝি। কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে তুলে হাঁটা শুরু করেন তিনি। বাবার সঙ্গে হাঁটা শুরু করেন দানা মাঝির ১২ বছরের মেয়েও।

ভারতের দরিদ্র রাজ্যগুলোর মধ্যে উড়িষ্যা অন্যতম হওয়ায় সেখানে দুঃস্থ পরিবারগুলির কথা ভেবে গত ফেব্রুয়ারিতেই ‘‌মহাপ্রয়াণ’‌ প্রকল্প চালু করেছিল উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সরকার। ওই প্রকল্পের জন্য ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মি. মাঝির অভিযোগ জেলা হাসপাতাল তাঁর মৃত স্ত্রীর জন্য কোনও গাড়ি দিতে অস্বীকার করে।

“হাসপাতালে সবাইকে নিজের অসামর্থের কথা বলে অনুরোধ করেছিলাম স্ত্রীর দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে। কেউ সাহায্য করে নি। উপায় না দেখে কাঁধে স্ত্রীর দেহ নিয়ে মেয়েকে সঙ্গে করে হেঁটেই গ্রামে ফিরছিলাম,” জানিয়েছেন দানা মাঝি।

সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা মি. মাঝির কথা শুনে ফোন করেন জেলা শাসককে। আর্জি জানান সাহায্য পাঠানোর জন্য। জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে গাড়ি আসে। বাকি ৫০ কিলোমিটার রাস্তা সেই গাড়িতে চেপেই স্ত্রীর দেহ আর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন দানা মাঝি। সৎকারের জন্য দেওয়া হয়েছে সরকারী সাহায্যও।