• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

সৈয়দপুরে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী আট মাসের অন্তঃস্বত্তা, বিচারের কলকাঠি প্রভাবশালীদের হাতে !


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৬ অপরাধ, দেশের খবর, রংপুর

Rape-Suvivor


মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নীলফামারী জেলার সৈয়দপর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া এক মেয়ের বিয়ের আগেই অন্তঃস্বত্তা হওয়ার খবরে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউপি’র আইসঢাল হিন্দুপাড়ার মৃত বাসুদেব রায়ের কন্যা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী (ছদ্মনাম) দোলা রাণী (১৩)। একই গ্রামের নকুল দাসের পুত্র ট্রলি চালক অবিনাষ চন্দ্র (২৩) মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে দৈহিক সম্পর্ক করে। ক্রমাগত অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের ফলে মেয়েটি একপর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে যায়। তখন দোলা অবিনাষকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্ত ধুরন্ধর অবিনাষ দোলাকে বিয়ে করবে করবে বলে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যায়। এরই একপর্যায়ে অবিনাষ গত মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) গভীর রাতে দোলার বাসায় যায়। দোলাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য আহ্বান করলে দোলা বিয়ের আগে আর নয় বলে জানায়। এসময় দোলাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করাতে চাইলে দোলা চিৎকার দেয়। এবং দোলার পরিবারের লোকজন ঘটনা টের পেয়ে হাতে-নাতে অবিনাষকে ধরে ফেলে। কিন্তু সুচতুর অবিনাষ দোলার পরিবারের লোকজনের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে দোলার বাসায় গেলে দোলা কাঁদতে কাঁদতে জানায়, আমার গর্ভে ৮ মাস বয়সী সন্তান। অবিনাষ আমার বিশ্বাসের অমর্যাদা করে আমার সর্বনাশ করেছে। সে বলে, আমি আমার গর্ভের সন্তানের পির্তৃপরিচয় চাই, আমি অবিনাষকে বিয়ে করতে চাই।

এ ব্যাপারে অবিনাষের বক্তব্য জানার জন্য তার বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার পর থেকে অবিনাষ পলাতক রয়েছে।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার একটি দাঙ্গাবাজ প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা মেয়েটির গর্ভের সন্তান নষ্ট করা সহ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। মেয়ের পরিবার খুবই গরীব ও সংখ্যালঘু হওয়াতে তারা এর প্রতিবাদ করতে পারছে না বলে সেই সূত্রটি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী জানান, এই বিষয়টি আমি পুরোপুরি অজ্ঞাত। বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন হলে মেয়েটিকে আইনী সহায়তা দেয়া হবে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।