• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

বাংলাদেশ বলছে বন্যা হবে না , ভারত বলছে বর্ষায় এটাই স্বাভাবিক


❏ শুক্রবার, আগস্ট ২৬, ২০১৬ ফিচার

এম এ রুবেল , স্টাফ রিপোর্টার , সময়ের কণ্ঠস্বর  –   ভারত সরকার বিহার রাজ্যের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে ফারাক্কার ১০৪ টি গেটের মধ্যে  ১০০টি গেট খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।  ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে  বিপদসীমায় এখন  পদ্মা ও মহানন্দা ।   প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা শুধু  চাঁপাইনবাবগঞ্জেই  ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী । অথচ সরকারের মন্ত্রী ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে বাংলাদেশ অংশে পদ্মায় পানি বাড়বে কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হবে না। আর ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে  বর্ষার মওসুমে এটা  ‘স্বাভাবিক ঘটনা’।

 বিহারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে  ১১ লাখ কিউসেক পানি ফারাক্কার গেট  দিয়ে বের করে দিতে হবে   এই ১১ লাখ কিউসেক পানি বাংলাদেশের ভেতরে এসে বাংলাদেশ অংশে পদ্মায় পানি প্রবাহ বাড়ালেও তা বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা। ফারাক্কা বাঁধের ১০৪টি গেটের ১০০টি খুলে দেয়া হলেও বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা অবনতি ঘটবে না বলেই মনে করছেন এই কর্মকর্তারা।

faracca-get-khule

অথচ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু রাস্তায় বা শহরে কোনো স্বজনের বাড়িতে ।  প্রতি দিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ভারত ফারাক্কার বেশির ভাগ গেট খুলে দেয়ায় গত চার দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মায় ৪৪ সেমি এবং মহানন্দায় ৩৫ সেমি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পদ্মা বিপদসীমার ৩১ সেমি ও মহানন্দা ৩৫ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির করনে তিনদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ি পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৪০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। শহরের রক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী নগরীসহ জেলার কয়েকটি উপজেলায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে প্রতি দিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে করে সীমান্ত ও চর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের অনেকের বিভিন্ন ফসল ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বাসস্থান ত্যাগ করে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

 রাজশাহীর পদ্মার গেজ পাঠক শহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালেই পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছিলো ১৮ দশমিক ৫ মিটার উপর দিয়ে। ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে পানি শূণ্য দশমিক ৫ মিটার বৃদ্ধি হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ১৮ দশমিক ১০ মিটার উপর দিয়ে। এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নগরীসহ পবা উপজেলার নবগঙ্গা এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। আশেপাশের বেশ কিছু এলাকাও প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

গেজ পাঠক শহিদুল ইসলাম আরো সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, পদ্মার পানি দুই দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ভাঙনের বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। যেখানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে সেখানেই মেরামত করা হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। নদীর পাড় রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র সমীর সিনহা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ফারাক্কায় গেটগুলো খুলে দেবার বিষয়ে বাংলাদেশকে আগেই নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে এবং এনিয়ে বাংলাদেশের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে  । বর্ষার মওসুমে এটিকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’  হিসেবে বর্ণনা করেন  তিনি ।