• আজ সোমবার, ৩ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণের ধুম পড়েছে


❏ শুক্রবার, আগস্ট ২৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে। এ ঈদকে ঘিরে প্রধান ব্যস্ততা থাকে পশু কোরবানি করার। কেউ নিজের গোয়াল থেকে পছন্দের গরু কোরবানি করেন, কেউবা হাটবাজার থেকে কিনে আনেন। জেলার শ্রীপুরে চলছে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণের ধুম। উপজেলার একটি পৌরসভা ও আট ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামেই রয়েছে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণের কর্ম্যস্ততা। মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ উপায়ে কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে বিপ্লব ঘটবে, যা উপজেলার কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করেও পার্শ¦বর্তী কয়েকটি জেলা-উপজেলার পশুর চাহিদায় বড় ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের। স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ মাংস উৎপাদনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। খামারিদের নিয়ে চলছে সভা-সেমিনার নিরাপদ মাংস উৎপাদনের কলাকৌশল। এ কাজে তিন থেকে চার হাজার লোকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হচ্ছে। বেকারত্ব ঘুচে আয় হচ্ছে সংসারে, দূর হচ্ছে অভাব-অনটন অর্থ কষ্ট।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সূত্র জানায়, এ বছরে পৌর শহরসহ আরো আটটি ইউনিয়নে কোরবানির ঈদে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় বিশ হাজার। এর মধ্যে গরু ১২ থেকে ১৩ হাজার, মহিষ ১ থেকে দেড় হাজার, ছাগল ভেড়া সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার। প্রত্যেক বছরই চাহিদার পরিমাণ বাড়ছে। কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই গরু মোটাতাজাকরণে মৌসুমি খামারিরা থাকে মহাব্যস্ত। গত কয়েক বছর খামারিরা লাভের মুখ দেখায় আরো আগ্রহী হয়ে উঠছে পশু মোটাতাজাকরণে।

এ বছর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই ছোট, বড়, মাঝারি মাপের অনেক গরুর খামার গড়ে উঠেছে। কেউ দুই থেকে তিনটি আবার কেউ পাঁচ থেকে ত্রিশটি করে গরু পালন করছে। নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চলছে পশুর পরিচর্যা, মোটাতাজাকরণ। এদিকে কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদীঘাট, বাপতা বেলদিয়া, সোনাব, কাশেমপুর, ধামলই, প্রহল্লাদপুর ইউনিয়নের মারতা, ছাইকলা, গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট, বাঁশবাড়ি, নগরহাওলা, জৈনাবাজার, মাওনা ইউনিয়নের, সলিংমোড়, বারোতোপা, বদনীভাঙ্গা, সিংদিঘি, কারনবাজার, রাজাবাড়ি ইউনিয়নের, চিনাশুকনিয়া, পাবুর, বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া, গোলাঘাট, ঠাকুরতলাসহ বেশ কিছু গ্রাম এলাকায় নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ত্রিশ হাজারের বেশি পশু মোটাতাজাকরণ চলছে। কাওরাইদ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাব গ্রামের এক্সপার্ট ফার্মে ২২টি গরু মোটাতাজাকরণের কাজ চলছে। খামারের ম্যানেজার সাহাব উদ্দিন বলেন, গত দুই-তিন বছর ধরে পশু (গরু) মোটাতাজাকরণ করে বেশ লাভবান হচ্ছে প্রান্তিক খামারিরা। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২২টি গরু মোটাতাজাকরণ চলছে। সব খরচ শেষে ৭-৮ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। এদিকে পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু পালনে নিয়মিত মনিটরিং করে পশু হাসপাতাল।

goru-mota-taja

বরমী ইউনিয়নের গোলাঘাট গ্রামের খামারি জাফর মিয়া জানান, আড়াই থেকে তিন মাসেই সহজ উপায়ে গরু মোটাতাজা করা সম্ভব। প্রথমেই কৃমিমুক্ত করা, নিয়মিত খাবার পদ্ধতি (ইউএমএস) ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্রো প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যসম্মত ওষুধ ব্যবহার করেই সুস্থ স্বাস্থবান পশু তৈরি করা যায়। শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আশরাফ হোসেন জানান, গত দুই-তিন বছর ধরে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোমাংস উৎপাদনে খামারিদের নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্টেরয়েট জাতীয় ওষুধসহ মানব দেহের ক্ষতিকারক এমন ওষুধ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত, এর কুফল কি এ নিয়ে হাসপাতালে, খামারিদের বাড়িতে, নির্দিষ্ট এলাকায় সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। কোনো কোনো ওষুধ মানব দেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, কোনো ওষুধ স্বাস্থ্যসম্মত এসব বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছে খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল জলিল সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ উপজেলায় চাহিদার দেড়গুণ কোরবানির পশু পালিত হচ্ছে গ্রামের ঘরে ঘরে। নিজস্ব চাহিদা পূরণ করেও আশপাশের উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে এ অঞ্চলের পশুখামারিরা। গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অখিল চন্দ্র জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার জেলায় নিরাপদ পশু পালন বেশি হয়েছে। খামারিদের সচেতন করতে নিয়মিত সভা-সেমিনারের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ করায় এটা সহজ হয়েছে।