• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

হুমকির মুখে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ , তলিয়ে যেতে পারে শহর


❏ শুক্রবার, আগস্ট ২৬, ২০১৬ রাজশাহী

 সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   ফারাক্কা বাঁধের কারণে পলি জমে ভরাট পদ্মা  ।   গত ৪০ বছরে বাংলাদেশে পদ্মার তলদেশ ১৮ মিটার ভরাট হয়ে গেছে। এক সময় যে পদ্মা ২৫ লাখ কিউসেক পানি ধারণ করতে পারতো এখন তা ৫০ ভাগে নেমে এসেছে। ইতোমধ্যে মওসুমী বন্যায় পদ্মা এখনই বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এখন ভারত ফারাক্কার গেটগুলো খুলে দিলে এক সঙ্গে পানির এতো চাপ সহ্য করতে পারবে না পদ্মা। ফারাক্কার কারণে পদ্মার বুকে শত শত চর পড়েছে। পদ্মার শাখাগুলোও ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়তে পারে, শহর তলিয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

dube-jete-pare-rajshahi-soh

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বেড়েই চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৭ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বেড়েছে ৭ সেন্টিমিটার।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানিবিজ্ঞান বিভাগের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। বর্তমানে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। চলতি বছরের ৩১ মার্চ রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৯৬ মিটার। স্বাধীনতা-উত্তর রাজশাহীর ৪৫ বছরের ইতিহাসে এটাই ছিল পদ্মায় পানিপ্রবাহের সর্বনিম্ন উচ্চতা। এর পর গত ১ জুন থেকে রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। ওই দিন পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৯৫ মিটার। গত ৮৫ দিনে পানি বেড়েছে ১০ দশমিক ১০ মিটার। বর্তমানে পদ্মায় যে হারে পানি বাড়ছে, তাতে দুই বছর পর এবার রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। সূত্রমতে, ২০১৪ সাল ও গতবছর রাজশাহীতে পদ্মা বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পর্যবেক্ষদের মতে, পদ্মার বুকে এখন শত শত চর পড়েছে। ফলে নদীর মূল স্রোত বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পানির ধারণ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে পদ্মার পানিতে প্রবহমান থাকতো এমন শাখাগুলোও মরে হেজে-মজে গেছে। সেগুলোর ধারণ ক্ষমতা নেই বললেই চলে। বড়াল, গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা, মাথাভাঙ্গা, আত্রাই, চিকনাই, হিনসা, কুমার, সাগরখালি, কপোতাক্ষ, চন্দনাসহ পদ্মার ৮৫টি শাখা-প্রশাখা নদীর বুকে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। কোনো কোনো স্থানে বালু স্থায়ী মৃত্তিকায় রূপ নেয়ায় ফসল আবাদ করেছেন অনেকেই। বর্তমানে পদ্মা নদীর দীর্ঘ চর এলাকায় নানা রকম ফসলের আবাদ করছেন কৃষকরা। এই ভরাট হওয়া নদীগুলোর জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ফারাক্কা থেকে হঠাৎ ছেড়ে দেয়া পানি ধারণ করতে না পেরে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।