🕓 সংবাদ শিরোনাম

কর্ণফুলী থানার পাশেই ছুরিকাঘাতে যুবক খুন সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করায়  ‘মিডিয়া এডুকেটরস নেটওয়ার্ক’ এর প্রতিবাদসাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমিরাতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভাকক্সবাজারে বিপুল সিগারেটসহ ৩ যুবক আটকরোজিনার সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের জেলে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহকেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে যুবতীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারপাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে নারী ও শিশুসহ ২৪জন আটকসাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়: ভিপি নুরসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফআর এমন ভুল হবে না: নোবেল

  • আজ বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৯ মে, ২০২১ ৷

ফরিদপুরে মধুমতি নদীর গর্ভে বিলীন বাড়ী-মসজিদ ও দুটি বিদ্যালয়


❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাড়ী-ঘর, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ ফসলী জমি ও চলাচলের রাস্তাসহ মধুমতির করাল গ্রাসে ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অতঃপর পানি কমতে শুরু করলে ভাঙ্গণের আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।

nodi-vangon

মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে ১৯২৩ সালে স্থাপিত হয় গয়েশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয় গয়েশপুর-বকশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয় মধুমতি ও গড়াই নদীর মাঝখানে অবস্থিত। দুটি বিদ্যালয়ের জন্মের ব্যবধান ৫০ বছর হলেও ২০১৬ সালের ৩০ ও ৩১ আগষ্ট একই সাথে মধুমতী ও গড়াই নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেল দুটি বিদ্যালয়ের পাকা, সেমি পাকা মিলিয়ে নয়টি ভবন।

মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান মোল্যা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন নাহার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আঃ মালেক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহরাব হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বাবুসহ সাংবাদিকগন ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শণ করেছেন উপজেলার কামারখালীর গয়েশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গয়েশপুর-বকশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা। মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে মধুমতী ও গড়াই নদীর পশ্চিমপাড়ে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলা সংলগ্ন এলাকায় ওই বিদ্যালয় দুটি অবস্থিত।

শুধু দুটি বিদ্যালই নয়। ওই ইউনিয়নের গয়েশপুর, চর গয়েশপুর, বকশীপুর, আড়পাড়া, জারজন নগর ও স্বরবরাজন এই ছয়টি গ্রামে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ভাঙ্গন শুরু হলেও মধুমতি ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫শ টি পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতবাড়িসহ শেষ সম্বল। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। আর পানি বন্দী হয়ে আছে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার।

দুটি বিদ্যালয়ের নয়টি ভবন থেকে আসবাবপত্র সরানো হয়েছে। খুলে ফেলা হয়েছে দরজা, জানালা সহ অন্যান্য সামগ্রী। এখন শুধু বিলিনের অপেক্ষায় রয়েছে বিদ্যালয়ের ভবনগুলি। ভাঙ্গনের কারণে গয়েষপুর-বকশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান গত বুধবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই বিদ্যালয়ের ১৮৫ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গয়েশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ দান। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে ওই বিদ্যালয়ের ১৬২ জন শিক্ষার্থীর।

গয়েষপুর-বকশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, স্কুলের ছয়টি ভবনের মধ্যে সেমি পাকা দুটি ও ডোয়া পাকা চারটি ভবন রয়েছে। আমরা স্কুলের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়েছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের। তারা পাঠদানের জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন। ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহিদুর রহমান বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা মালামাল সরিয়ে নিয়েছি।

গয়েশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ওহেদুজ্জামান বলেন, ১৯২৩ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। তখন এটি ছিল গয়েশপুরে। ৩০ বছর আগে ভাঙ্গণের কারণে স্কুলটি বকশীপুরে বর্তমান স্থানে নিয়ে আসা হয়। এবার আমরা দ্বিতীয় দফা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছি। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি পাকা ও একটি সেমি পাকা ভবন রয়েছে। ভবনগুলি মধুমতি ও গড়াই নদীতে গর্ভে বিলীন হওয়ায় আমরা খুব বিপদের মুখে রয়েছি।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ওই এলাকায় ভাঙ্গণ ঠেকাতে এবং স্কুলের ভবনগুলি রক্ষা করার জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সকলকে উদ্যোগ নিতে বলেছি। দুটি স্কুলের ভবনের আসবাবপত্রসহ আনুসংঙ্গিক সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, গয়েশপুর বকশীপুর এলাকায় পাউবোর কোন প্রকল্প চলমান নেই। এজন্য আমাদের কাজ করার সুযোগ কম। তবে স্কুলের ভবনগুলি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যারা নির্মাণ করেছেন তাদেরই প্রতিরক্ষামূলক কাজ হাতে নেওয়া উচিত।

মধুখালীর সালামাতপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আঃ রউফ। তাঁর নামে কামারখালী বাজার হইতে সালামতপুর যাদুঘর ও তাঁর গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত ইটের রাস্তা তৈরি করা হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করেন। গন্ধখালী মোঃ আয়ুব মোল্যার বাড়ির সামনের রাস্তা নদী গর্ভে চলে গেছে। যার দরুণ মানুষ চরম কষ্টে ও আতঙ্কে এই রাস্তা পার হচ্ছে ফলে যে কোন সময় প্রাণ হানীর মত ঘটনা ঘটতে পারে।