ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত কুমিল্লার কামার শিল্পীরা

⏱ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৬ 📁 চট্টগ্রাম, দেশের খবর

রবিউল হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি: আসন্ন ১৩ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার কামার সম্প্রদায়। কুমিল্লা চকবাজরের কামারপট্টিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, দা, বটি, চাপাতি, ছুরিসহ কোরবানির বিভিন্ন সরঞ্জাম সারিবদ্ধভাবে সাজানো এবং হাঁতুড়ি পেটার ঠুকঠাক, টুং-টাং শব্দে মুখরিত কামারশালাগুলো। কুরবানির পশুর মাংস কাঁটাকাটি আর চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত চাপাতি, দা, ছুরি, বটিসহ কিছু ধারালো জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শিল্পীরা।

comilla

জানা গেছে, চকবাজারে ৩২টি কামারশালা রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদামতো দা, ছুরি, বটিসহ নানা ধরনের ধারালো জিনিসপত্র তৈরিতে এখন কামার শিল্পীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে কোরবানির সময়টাতে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় তাদের আয়-রোজগারও। সারা বছর তাদের দুর্দিন থাকলেও এখন অনেকটাই সুদিন। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বিক্রি ততো বেশি হচ্ছে।

সদর উপজেলার শুভপুরের শনজিত চন্দ্র কর্মকার বলেন, আমি বংশ পরমপরায় ৩০ বছর ধরে কুমিল্লাতে দা, বটি, চাপাতি, ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে আসছি। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে কোরবানির সময়টাতে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। আমার দুই ছেলে রয়েছে। আমার দুই ছেলে এবং আমি এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। বর্তমানে প্রতি পিস বটি ২০০-৬০০ টাকা, চাপাতি -৩০০-৭০০ টাকা, ছুরি সর্বনিম্ন ৬০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে জবাই করার ছুরি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কাঠ কয়লার দাম বাড়ার কারণে দা, বটি, চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

কামারপট্টির নিতাই কর্মকার তিক্ত অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, পরিশ্রমের তুলনায় এই কাজে লাভ অনেক কম। সারা দিন আগুনের পাশে বসে থাকতে হয়। ফলে বিভিন্ন ধরেনের সমস্যা শরীরে তৈরি হয়। আমার প্রতিদিন ২০০০-৩০০০ টাকা বিক্রি হয় কিন্তু এতে লাভ হয় মাত্র ১২০০-১৩০০ টাকা। এই টাকা থেকে কর্মচারী ও অন্যান্য খরচ মিটাতে হয়। শুধুমাত্র কোরবানীর সময়টাতে ভাল চলে। বাকি সময়টাতে ব্যবসা ভালো চলে না। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে।

কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, বংশ পরমপরায় কামাররা এ কাজে থাকলেও পাশাপাশি কিছু মুসলমানেরও এ পেশায় নিয়োজিত আছে। তেমনি একজন উপজেলার সুজানগরের হানিফ মিয়া জানান, সারা বছর তৈরি করা এসব পণ্য যত বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদ মৌসুমে। তাই এই সময়ে লাভ বেশি হয় এবং ব্যস্ত সময় পার করতে হয়।