‘যোশেফ আমার অনেক ভালো বন্ধু ছিলো, ওর মতো আমাকে কেউ বুঝত না’

⏱ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬ 📁 বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক – মনোয়ার হোসেন ডিপজলের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত সুপারহিট ‘দাদিমা’, ‘চাচ্চু’, ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’, ‘পিতার আসন’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সদ্য প্রয়াত বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার যোশেফ শতাব্দী। ডিপজলের নিজস্ব শুটিংবাড়ি দিপু ভিলায় থেকেই দীর্ঘ এক যুগ সময় ধরে চিত্রনাট্য লিখতেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বনামধন্য চিত্রনাট্যকার। এখনো তৈরি করা আছে তাঁর লেখা চারটি ছবির চিত্রনাট্য।

এ প্রসঙ্গে ডিপজল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ভোরে খবরটি পেয়েছি। নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে। মনকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না, যোশেফ নেই। চলচ্চিত্রের জন্য অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। আমি নিজেও খবর শোনার পর থেকে ভেঙে পড়েছি। জানি না, এখন কী করে ছবি বানাব। কারণ, আমাকে তাঁর মতো কেউ এত বেশি বুঝত না। ছটকু আহম্মেদ কিছুটা আমাকে বোঝেন, কিন্তু যোশেফের মতো কেউই না। আমার চারটি ছবির চিত্রনাট্য রেডি করে গেছেন। এই চারটি ছবি খুব তাড়াতাড়ি শুরু করার পরিকল্পনা আমার আছে।’

যোশেফ শতাব্দীর অসুস্থতা নিয়ে ডিপজল বলেন, ‘গত ১২ বছর ধরেই যোশেফ আমার এখানে থাকত। সে আমার অনেক ভালো বন্ধু। আমরা প্রতিদিনই আড্ডা দিতাম। আর সেই আড্ডা থেকেই তৈরি হতো ছবির চিত্রনাট্য। কিন্তু সে বছর দেড়েক অসুস্থ, আমি তাঁকে বারবার ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে বলেছি। টাকা দিতে চেয়েছি, কিন্তু সে কখনো নেয়নি। সে বলত, ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এত বড় অসুখ হয়েছে, কখনো আমাদের বুঝতে দেয়নি। তাঁর পরিবারে কোনো অভাব যেন না থাকে তা নিশ্চিত হবে, আমি তাঁর পরিবারের পাশে আছি।’

dipjol-zosef

ডিপজল আরো বলেন, ‘আমি সকালে রেডি হচ্ছিলাম সিরাজগঞ্জ যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখন কোরবানি হাট চলছে। সেখানে গেলে লোকের ভিড় সামলাতে সমস্যা হবে বলে যাওয়া হচ্ছে না। আমি এখান থেকে তাঁর জন্য দোয়া করছি। কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর কবর জিয়ারত করতে যাব।’

চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য চিত্রনাট্যকার যোশেফ শতাব্দী গতকাল দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে সিরাজগঞ্জে নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬২ বছর। আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর জানাজা শেষে সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। গত বছর তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে।

‘দাদিমা’, ‘চাচ্চু’, ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’, ‘পিতার আসন’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন যোশেফ। তিনি পরিচালক দেওয়ান নজরুলের হাত ধরে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ‘আসামী হাজির’ ছবি দিয়ে তিনি চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য শুরু করেন। তিনি মারা যাওয়ার সময় দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন।