সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে ৭১ বস্তা ভিজিএফ’র চাউল আটক করেছেন ইউএনও

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নীলফমারী জেলার জলঢাকায় ভিজিএফ এর চাউল আটক করে ভূয়শী প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. রাশেদুল হক প্রধান।

013646


আজ শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা দিকে উপজেলার গোলনা নবাবগঞ্জ বাজারে কয়েকটি গোডাউনে  অভিযান চালিয়ে ৭১ বস্তা ভিজিএফ এর চাউল আটক করা হয়।

ওই বাজারের চাউল ব্যবসায়ী হক সাহেব, জাহাঙ্গীর ও রবিয়াল এর গোডাউন থেকে চাউলগুলো উদ্ধার করা হয়। ৭ বস্তা ভিজিএফ এর চাউল কেনার উপরাধে নেলভেলু নামে এক ব্যবসায়ীকে ২’শ টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে চাউলের বস্তাগুলো ভ্যান যোগে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়।

ইউ’পি সচিব গোলজার রহমান নীলফামারীনিউজ-কে জানান, গোলনা ইউনিয়নে ৬ হাজার ৮’শ ৫২টি পরিবারকে ১০ কে’জি হিসেবে (৬৮.৫২ মেট্রিক টন) ১৩শ ৭০ বস্তা ২০ কে’জি চাউল বরাদ্দ ছিল। চাউল বিতরণে কোন রকম অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির নীলফামারীনিউজ-কে জানান, আমি কোন চাউল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি নাই। আমি সার্বক্ষনিক ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থেকে চাউল বিতরণ করেছি । পরিষদ থেকে বাজার দূরে, সেখানে যদি কোন ব্যবসায়ী ভিজিএফ এর চাউল কিনে তার গোডাউনে রাখেন তার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।

এ সময় থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. রাশেদুল হক প্রধান নীলফামারীনিউজ-কে জানান, যারা চাউল পায়নি আটককৃত চাউলগুলো তালিকা করে তাদেরকে দেয়া হবে।

পরিশেষে, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউপিতে কয়েকজন পাইকার চাল কিনছে এবং চাল গচ্ছিত রাখা গোডাউনের তথ্য সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানার ওসিকে মোবাইলে এসএমএস মারফত অবগত করা হলেও কোন ধরনের তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। ফলে পাইকাররা দেদারছে চাল কিনেছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর চাল বিতরণ শুরু হয়ে গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর চাল বিতরণ শেষ হবার কথা থাকলেও কামারপুকুরে তা সম্ভব হয়নি। কারণ গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৬০০ স্লিপধারী দরিদ্র মানুষ চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় চাল না পেয়েই খালি হাতে বাড়ি ফেরেন। এখন প্রশ্ন হলো, মানুষের হাতে স্লীপ থাকার পরও সেই স্লীপের চাল কোথায় গেল! এই প্রশ্নের উত্তর সাংবাদিক হিসেবে আমরা জানি এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অনিয়ম আর দুর্নীতির হাল-হকিকত স্থানীয় প্রশাসনকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েও চালের পাইকারদের গরীবের পেট মেরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পদ্ধতি সৈয়দপুরে বন্ধ করা না গেলেও জলঢাকা উপজেলা ইউএনও মহোদয় সেটা করেছেন বলে তাকে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

ভাল থাকুন মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, ভাল থাকুক আইনের শাসন…