রহস্যময় এক ভূতুড়ে ছবিঃ কুপারস ফ্যামিলি ফটো


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র

কুপার'স ফ্যামিলি

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কণ্ঠস্বর। পৃথিবীর সবচেয়ে ভুতুড়ে ছবিগুলির তালিকা করা হলে প্রথমদিকে যে ছবিটির নাম আসে তা হল, “কুপারস ফ্যামিলি ফটো”। ছবিটা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ছবিটা কবে তোলা হয়েছে তার সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না। অধিকাংশ ধারণামতে ছবিটা  ১৯৫০ সালের দিকে তোলা।

১৯৫০ সালের দিকের কোন এক দিনে কুপার পরিবার তাদের বাড়ি বদল করে টেক্সাসে চলে আসে। টেক্সাসে তারা নতুন একটা বাড়ি কেনে। কুপার পরিবারের সদস্যরা সবাই সেই বাড়িতে উঠে আসেন। পরিবারের সদস্য ছিল ছয় জন। মিস্টার কুপার, তার স্ত্রী, তাদের দুই ছেলেমেয়ে এবং মিস্টার কুপারের মা।

তারা যেদিন টেক্সাসে নতুন বাড়িতে চলে আসে তার পরদিনই ছবিটা তোলা হয়। ছবিটা তুলেছিলেন মিস্টার কুপার নিজেই। ছবিতে দেখা যায় মিস্টার কুপারের স্ত্রী এবং তার মা দুজন দুটি চেয়ারে বসে আছেন। তাদের কোলে দুটি ছেলে মেয়ে। ছবিটি তোলা হয়েছিল তাদের ডাইনিং রুমে। ছবি তোলার সময় অস্বাভাবিক কোন কিছু চোখে পড়েনি।

কিন্ত ছবি প্রিন্ট করার পর একটা ভয়ংকর ব্যাপার দেখা গেল। ছবির পেছনে একজন লোক সিলিং থেকে উল্টোভাবে ঝুলে আছেন। দেখে মনে হচ্ছিল একটা মৃতদেহকে যেন সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কিভাবে আসলো এই মৃতদেহ? যখন ছবি তোলা হয় তখন এরকম কিছু তো দেখা যায়নি। তাহলে?

এখানেই রহস্য। এখানেই প্রশ্ন চলে আসে ছবিটা কি আসল? প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞরা বলেন ছবিটা আসল। ঝুলন্ত দেহটা নিয়ে তারা অনেক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। বেশিরভাগের মতে, ঝুলন্ত দেহটা আসলে একটা আত্মা। আত্মাটা সম্ভবত কোন একজন মানুষ যিনি ওই বাড়িতেই মারা গিয়েছিলেন।

আবার কেউ বলেন, আত্মাটার নাকি ছবি তোলার শখ হয়েছিল। সবচেয়ে মজার ব্যাখ্যাটা সম্ভবত এটাই, আত্মাটা টাকার অভাবে ক্যামেরা কিনতে না পেরে ছবির ফ্রেমে ঢুকে গেছে। যদিও কেউ স্বপক্ষে জোরালো কোন প্রমাণ দিতে পারেননি। কারণ আজ পর্যন্ত ওই বাড়িতে কেউ মারা গিয়েছিলেন কিনা তা জানা দূরে থাক, কোন বাড়িতে কুপার পরিবার এই ছবিটি তুলেছেন বা তারা থাকতেন সেটাই আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।

এমনকি এই কুপার পরিবার সম্পর্কেও কোন তথ্য নেই। আরো রহস্যজনক ব্যাপার হল, এই ছবির মূল প্রিন্টেড কপি কখনোই পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানমনস্করা বরাবরই এই ছবিটিকে মিথ্যা বলে আসছে। তাদের ব্যখ্যা, ছবিটা সম্ভবত ফটোশপ বা এই জাতীয় কোন সফটওয়ারে এডিট করা। কারণ ছবিটা মূলত আলোচনায় আসে ২০১২ সালের দিকে। কিন্ত, গুগল বলছে ছবিটা আরো অনেক আগে থেকেই ইন্টারনেটে ছিল।

ছবিটার আরো একটা ব্যাখ্যা হল, এটা ডেভোলপ করার সময় কেমিক্যাল পড়ে, পিছনে মানবদেহ আকৃতিটা তৈরী হয়েছে। তবে কেমিক্যাল পড়ে এত নিখুতভাবে মানব আকৃতি তৈরী হওয়াটা একটু অস্বাভাবিক।

তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বলা যায়, এটি আসলে দুটো ছবি। একটা ছবি উলটো করে আরেকটা ছবির উপর ট্রেস করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, এই যুক্তির স্বপক্ষেও তেমন কোন প্রমাণ হাজির করা যায়নি। আর তাই ছবিটা, সবচেয়ে রহস্যময় প্যারানরমাল ছবি হিসেবে আছে এক নাম্বারে।

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন :
২৩ বছরে ১১ শিশুর মা, নিতে চান ১০০ সন্তান!

❏ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১

এক মুলার ওজন সাড়ে ৮ কেজি !

❏ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২১

স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমিকা নিয়ে গেলে অর্ধেক ছাড়!

❏ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২১

Chicken ২৫ দিন ধরে থানার লকআপে ২ মুরগি!

❏ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২১