• আজ শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৫ মে, ২০২১ ৷

প্রেম মানে না ধর্ম : যে প্রেমের ‘বাঁধন’ দেখে হতবাক সবাই


❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   দুই জন দুই ধর্মের একজন হিন্দু একজন মুসলমান কিন্তু তাতে কি হয়েছে প্রেম মানে না ধর্ম ।   তাইতো  দুইজনকে আলাদা করার ফন্দি-ফিকির করে পুলিশ ও তাদের পরিবার  । পুলিশ দেয় ধমক ,  পরিবারের লোকজন করেন অনুনয়-বিনয়। সবকিছু উতরে কেউ কারো হাত ছাড়লেন না। আর এই প্রেমের ‘বাঁধন’ দেখে হতবাক  সবাই।

prem-manena

রং নাম্বারে পরিচয়। এরপর প্রেম। চার মাস মন দেয়া-নেয়া। প্রেমের ইতি ঘটাতে তারা ছেড়েছেন বাড়িও। পালিয়ে করেছেন বিয়ে। এরপর পুলিশ আটক করলেও তারা একে অপরকে ছাড়তে নারাজ।

মেয়ের নাম প্রিয়াংকা রানী দাশ। বয়স ২১ বছর। সার্টিফিকেট অনুযায়ী মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্কা। বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়েছে প্রিয়াংকা। তার পিতার নাম সদয় রাম দাশ। নতুন নাম ফাতেমা বেগম। তার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামে। ছয় ভাই- বোনের মধ্যে প্রিয়াংকা সবার ছোট। সে সিলেটের মদন মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ৩য় বর্ষের ছাত্রী।

ছেলের পুরো নাম জামিল আহমদ। তার পিতার নাম মৃত কুতুব উদ্দিন। বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামে। ছয় ভাই বোনের মধ্যে জামিল চতুর্থ। পেশায় রং ও টাইলস মিস্ত্রি।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানা কম্পাউন্ডে জামিল আহমদ সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৪ মাস আগে রং নাম্বারে ফাতেমার সঙ্গে পরিচয় হয় জামিলের। রং নাম্বারে মোবাইলের একটি কলের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরিচয় ঘটে। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা শুরু হয়। এর পর ধীরে ধীরে শুরু হয় প্রেম। তাদের মধ্যে হয় দেখাদেখিও। জকিগঞ্জ থেকে ছুটে এসে ফাতেমার সঙ্গে দেখা করতেন জামিল। চার মাসের প্রেমের পর তারা অবশেষে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

২৮শে আগস্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিক জামিলের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রিয়াংকা ওরফে ফাতেমা। জামিলের হাত ধরে সে চলে আসে নগরীর টিলাগড়ে। সেখানে জামিলের খালার বাসায় আশ্রয় নেয়। জামিলকে বিয়ে করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরে ৩০শে আগস্ট সিলেটের আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়। প্রিয়াংকা থেকে নাম ধারণ করে ফাতেমা।