ষাঁড়ের দাম ২৫ লাখ, প্রতিদিন এক নজর দেখতে আসছে হাঁজার হাঁজার মানুষ!


❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট

দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: ২৫ লক্ষ টাকার ষাঁড় দেখতে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে। সম্পুর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দেলুয়া গ্রামের পরিস্কার বেগমের এ ষাঁড়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কেবল সাটুরিয়া নয়, আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন ভিড় করছে এ ষাঁড়টি দেখতে। ষাঁড়টির মালিক খাইরুল ইসলামের স্ত্রী পরিস্কার বেগম ও তার কন্যা ইতি আক্তার এ ষাঁড়টি সাড়ে তিন বছর ধরে লালনপালন করে আসছে।

পরিস্কার বেগম বলেন, আমার ছোট মেয়ে ইতি ষাঁড়টির নাম রেখেছে লক্ষিসোনা তিনি আরও বলেন, ষাঁড়টি কে লক্ষি বলে ডাকলে কথা বেশি শোনে, কখনও রেগে গেলে নলকুপের ঠাণ্ডা পানি শরীরে ছিটিয়ে দিলে সে শান্ত হয়ে যায়।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস বিষয়টি বিষয়টি নিশ্চিত করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, পরিস্কার বেগমের এ ষাঁড়টি আমি গত দুইটি বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করছি। এ ষাঁড়টিকে কোনো প্রকার মোটা তাজাকরণ ওষুধ সেবন ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করে আসছে। এ ষাঁড়টি উচ্চতা ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি, লম্বা ৯ ফিট, ভের ৬ হাত, আমাদের হিসাব অনুযায়ী সর্ব নিম্ন ওজন হবে ৩৫ মণ। বর্তমানে এটি মানিকগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড়।

sar-25-lakh

পরিস্কার বেগমের কন্যা ইতি আক্তার জানান, তাকে ছাড়া কেউ তার ষাঁড় লক্ষীকে শান্ত করতে পারে না, একে বিভিন্ন রকমের দেশীয় খাবার খাওয়ান। লক্ষীকে তিন বেলা বড় ধরনের খাবার খাওয়াতে হয়। চিড়া, ছোলা, গুড় ও ভুষি পানিতে ভিজিয়ে রাখেন এর পর মিষ্টি লাউ, কুমড়া কেটে সিদ্ধ করে সব একত্র করে তিন বেলা খাওয়ান ।

লক্ষীর প্রতিদিনের খাবারের রুটিনে আছে লেবু, মাঝে মাঝে টক পানি তো আছেই। এক ঘন্টা পর পর নাস্তা সারেন বিচি কলা ও শবরি কলা দিয়ে। তাকে নিয়মিত স্যালাইন খাওয়ানো হয়।

ইতি আরো জানান, তার বাবা খাইরুল ইসলাম খান্নু তাদের জন্য বাজার থেকে চাউল কিনতে ভুলে গেলেও লক্ষীর জন্য আঙ্গুর, কমলা ও মালটা আনতে ভুল করেন না। প্রতিদিন ফল খাওয়ান প্রায় ৩- ৪ শ' টাকার।

বিশাল আকৃতির এ ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে হাজার হাজার মানুষ। সাটুরিয়া উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একনজরে দেখতে আসছে।

25-lakh-sar

দৌলতপুর উপজেলার কাকরাঈদ জামে মসজিদের ইমাম মাওঃ সোহেল জানান, অনেক দিন ধরে শুনছি এ ষাঁড়টির কথা, তাই আজ দেখতে আসা। ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মোশারফ হোসেন জানান, আমরা ১০ বন্ধু মিলে আসছি ১৫ কিলোমিটর দুর থেকে।

পরিস্কার বিবির পাশের বাড়ির স্থানীয় শিক্ষক রশিদ মিয়া জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন আসছে এ ষাঁড়টি দেখার জন্য। সাধরণ মানুষের সাথে পাইকার রাও আসছে কেনার জন্য। কিন্ত ষাঁড়টি দেখার পর দাম বলার সাহস পায় না।

পরিস্কার বিবি জানান, লক্ষীর মা এক মাস ২২ দিন পর মারা যায়। পড়ে নিজের সন্তানের মতো করে আস্তে আস্তে লালন করতে থাকি। সাড়ে তিন বছর ধরে আমার স্বামী খাইরুল ও কন্যা ইতি তিনজন মানুষ ওর পিছনে পরিশ্রম করে আজকে পর্যন্ত নিয়ে আসছি। ষাঁড়টির পেছনে দেড় বছর ধরে প্রতিদিন এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বর্তমানে তিনি এ ষাঁড়টির দাম চাচ্ছেন ২৫ লাখ টাকা। তবে কোরবানি দেবে এমন কেও যদি কোনো মাধ্যম ছাড়া আসে তাহলে দাম কিছুটা কমাবেন বলেও জানান তিনি।