মই বেয়ে ট্রেনের ছাদে, গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা!

⏱ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ 📁 আলোচিত বাংলাদেশ, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর: বাস-ট্রেন-লঞ্চে তিল ধারণের জায়গা নেই। তবু থেমে নেয়া ঘরে ফেরার তাগিদ। অনেকে ঝুলছেন বাসের ছাদে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চড়ছেন লঞ্চে, উঠছেন ট্রেনের ছাদে। শুক্রবার গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা মই বেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছেন অনেক যাত্রী।news-rail-stat3

ঈদে জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ট্রেন যাত্রীদের অনেকেই ভিড় ঠেলে ট্রেনের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। অনেকে ট্রেনের ভেতরে ঢুকতে না পেরে মই বেয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ছেন সপরিবারে। এজন্য আলাদা টাকাও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এসিআই ফরমুলেশন কারখানার শ্রমিক এমারত জানান, ট্রেনের ভেতরে ঢুকতে পারিনি। মইওয়ালাকে ৪০ টাকা দিয়ে মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে উঠেছি। বাড়িতে তো যেতে হবে।

রাজেন্দ্রপুরের ডার্ড কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন যাবেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ট্রেনের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। অবশেষে মই বেয়ে ট্রেনের শেষের বগির ছাদে উঠছেন। ছাদে উঠে হেসে মইওয়ালাকে বললেন, ‘এইনাও তোমার ৫০ টাকা। এবার গফরগাঁও গিয়ে নামতে পারলেই বাঁচি।’

নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জের যাত্রী তমিজ উদ্দিন বলেন, পরিবারের লোকদের নিয়ে গাড়ীর ভেতরে উঠতে পারলাম না, ছাদেও উঠতে পারলাম না, মই দিয়ে উঠারও সিরিয়াল পেলাম না।

রাজেন্দ্রপুর বাজারের চা বিস্কুট বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, প্রতি ঈদে অন্যদের সঙ্গে তিনিও মই দিয়ে যাত্রীদের ট্রেনে চড়তে সহায়তা করেন। ট্রেনে উঠে যে যাত্রী খুশি হয়ে যা দেন তাতেই সন্তুষ্ট।

শ্রীপুর রেল স্টেশনে মই দিয়ে সহায়তা করা সেলিম বলেন, ঈদে সরকারী ছুটি ঘোষণা হলেই বিভিন্ন ট্রেনের সময়মতো মই নিয়ে স্টেশনে চলে আসি। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকায় অনভ্যস্ত লোকদের ছাদে চড়াতে সাহায্য করি। কেউ ১০ টাকা, কেউ আবার ২০ টাকাও দেয়, কোনো দাবী করি না।

তিনি বলেন, রেলওয়ের লোকজন দেখলে তাড়া করে। যাত্রী বেশি থাকলে দেখার সুযোগ নেই, তাড়াও করবে কি?

শ্রীপুর রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আব্দুল মোতালেব বলেন, ট্রেনের ছাদে উঠা ঝুঁকিপূর্ণ। ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের নিষেধ করেও পারি না। স্থানীয় দিনমজুররা এ মৌসুমে ট্রেন এলেই মই নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। দেখলে তাড়া করি। তারপরও সুযোগ বুঝে ট্রেনের ছাদে মই লাগিয়ে দেয়।