• আজ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অপ্রত্যাশিত খাতের টাকা অপ্রত্যাশিত দাবি!

❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

সাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার উপজেলার অপ্রত্যাশিত খাতের দুই লাখ টাকার প্রকল্পের অপ্রত্যাশিত দাবি করছেন। এতে বাস্তবায়িত প্রতিটি ২৫ হাজার টাকার প্রকল্পের মধ্য থেকে ১৫ হাজার টাকা করে কেটে রাখার অভিযোগ করেছেন প্রকল্প সভাপতি বা চেয়ারম্যানরা।

এ অবস্থায় চেয়ারম্যান বা প্রকল্প সভাপতিরা ওই কম টাকা গ্রহণ করছেন না। গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইউএনও’র পকেটে ছিল বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অপ্রত্যাশিত (বিবিধ) খাতের আওতায় উপজেলার ছয় ইউপি চেয়ারম্যান ও দুইজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের নামে পৃথকভাবে আটটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর প্রকল্প সভাপতি করা হয় চেয়ারম্যানদের। চেয়ারম্যানরা কাজ শেষ করে বিলের ভাউচার দাখিল করার পর তা অনুমোদনও দেওয়া হয়। এ সময় ইউএনও অফিসের সহকারী নজরুল ইসলাম বরাদ্দকৃত ২৫ হাজার টাকার চেকে প্রকল্প সভাপতিদের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া অফিস সহকারী নিজেই ব্যাংক থেকে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে চেয়ারম্যানদের খবর দেন।

প্রকল্প সভাপতি বা চেয়ারম্যানরা প্রকল্পের ওই টাকা নিতে গেলে ২৫ হাজারের স্থলে ১৫ হাজার টাকা করে কেটে রাখা হয়। এ অবস্থায় চেয়ারম্যানরা ওই টাকা গ্রহণ করেন না। তবে ভাইস চেয়ারম্যান দুইজনকে ২৫ হাজারের স্থলে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাশেম ও আফসানা রাব্বী রিপা।

রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, “ওই প্রকল্পের টাকায় আমি আমার এলাকার নতুন বন্দরে বাঁশের সেতু বানিয়েছি। এখন বিল নিতে গেলে দেয় ১০ হাজার টাকা। আমি ওই টাকা নেইনি। ২৫ হাজার টাকার চেকে স্বাক্ষর দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিব কেন?” একই ধরণের অভিযোগ করেন অন্য সব চেয়ারম্যানরা। বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, “আমার এলাকার ঝুনকির চর বাঁশের সেতু তৈরি করেছি। কম টাকা নিতে না চাইলে ইউএনও স্যার মামলার ভয় দেখান।” যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলী বলেন, “২৫ হাজারের মধ্যে ১৫ হাজারই নেই। এ তো দিন দুপুরে ডাকাতি।”

kurigram-oprotyasito-taka

ইউএনও’র কার্যালয়ের অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ওই আট প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি ছোট কর্মচারী, ইউএনও স্যারের নির্দেশমতো আমাকে কাজ করতে হয়। স্যার যা বলেন আমাকে সেটাই শুনতে হয়।”

অপ্রত্যাশিত দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, “আমি তো ইউএনও-কে পুরো টাকাই দিতে বলেছি। কিন্তু ইউএনও কেন দিচ্ছেন না, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, “আমার কাছে কেউ টাকা নিতে আসেননি। তাছাড়া প্রকল্পের হয়েছে কিনা- তা তো দেখতে হবে। যাছাইবাছাই করার পর টাকা দেওয়া হবে।” প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা তো উত্তোলন করা হয়েছে-এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাতে কী হয়েছে, টাকা তো চুরি হয়ে যায়নি।”