🕓 সংবাদ শিরোনাম

করোনায় বেসামাল ভারত, একদিনে আরও ৪০৯২ জনের মৃত্যুচীনা রকেটের সেই ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লো মালদ্বীপের কাছেঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাসশরীয়তপু‌রে কৃষিঋণ পেতে হয়রানি, ব্যাংকে দালাল চ‌ক্রের দৌরাত্ম্য চর‌মে!স্কটল্যান্ডের সংস‌দে প্রথম বাংলা‌দেশি এমপি নবীগঞ্জের ফয়ছল চৌধুরীসিলেটে চাহিদামতো ইফতারি না দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা!করোনাকালে কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষকদের করুণ দশা!ওয়ালটন স্মার্টফোনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ঈদ সালামি’চাচীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় ভাতিজাকে নৃসংশ ভাবে খুনকেরাণীগঞ্জে দুই কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-৪

  • আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, সকাল ১১:৩৫

অবৈধ দখলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক : মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ হাইওয়ে পুলিশের বিরূদ্ধে

❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ Breaking News, Uncategorized, ঢাকা, দেশের খবর

রেজাউল সরকার(আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর শ্রীপুর অংশে ভবানীপুর, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ী, মাওনা চৌরাস্তা, এমসি বাজার, নয়নপুর ও জৈনা বাজারে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দোকান এবং যত্রতত্র সিএনজি, অটোরিকশা, লেগুনা ও ট্রাক স্ট্যান্ড বসানোয় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব দোকান ও স্ট্যান্ড হতে মাওনা হাইওয়ে থানা মাসোহারা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মহাসড়কের যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মাওনা হাইওয়ে থানা গঠন করা হলেও এই হাইওয়ে পুলিশই এখন যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রধান বাধা।

আরো অভিযোগ রয়েছে যে , হাইওয়ে থানার অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন ১কি.মি. জুড়ে রাস্তায় অবৈধভাবে বসানো হয়েছে লেগুনা স্ট্যান্ড। মাওনা ফ্লাইওভারের দু-পার্শ্বে রাস্তায় রয়েছে প্রায় শতাধিক চায়ের স্টল, অবৈধ সিএনজি পার্কিংসহ কাঁচাবাজার হোটেল রেস্তোরা। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে মহাসড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। যাতে যানবাহন তো দূরের কথা চলাচলকারী লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মাওনা চৌরাস্তায় ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে কয়েকশ অবৈধ দোকান। এসব দোকান হতে প্রতি মাসেই মাসোহারা আদায় করেন হাইওয়ে থানা পুলিশ।

জন দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ককে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারলেনে উন্নীত করে। সেইসঙ্গে মাওনা চৌরাস্তায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালে ফ্লাইওভার উদ্বোধন করা হলেও চলতি বছর চারলেন মহাসড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের নেয়া এই পদক্ষেপে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের কারণে চারলেন সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলম এশিয়ার চালক ইব্রাহীম মিয়া জানান, যানজটের কারণে শ্রীপুর অংশের ১৫ কিমি. পথ পাড়ি দিতে ১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। একই পরিবহনের যাত্রী সোহেল মিয়া জানান, গাজীপুরের পরে যানজট হওয়ার কথা না থাকলেও এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে থাকতে হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গোমেজকে প্রতিদিন ঢাকা হতে ভালুকায় আসতে হয়। কথা হয় তার সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগেও ৪ ঘণ্টা লাগত এখনও ৪ ঘণ্টা লাগে অথচ মহাসড়ক হতে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিলে সুফল পেত যাত্রীরা।

এদিকে শ্রীপুরের নয়নপুর বাজারে অবস্থাও একই । সেখানে মহাসড়কের মধ্যে ইজারা নিয়ে বাজার বসিয়েছেন ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন। তিনি জানান তার বাজার হতে হাইওয়ে পুলিশকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতে হয়।

জৈনা বাজারের ইজারাদার সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হাসেম। মহাসড়কের উপর টিন দিয়ে অস্থায়ী দোকান তৈরি করে প্রতিটিতে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত নিয়ে শতাধিক দোকান বসিয়েছেন।

oboidho-dhokhol

তিনিও জানান, প্রতিমাসে হাইওয়ে পুলিশকে ৫০ হাজার টাকা করে দিতে হয় ১ মাস না দিলেই তারা দোকান ভেঙ্গে দেন। একইভাবে এমসি বাজারে পুলিশের সহযোগিতায় মহাসড়কের প্রায় শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। মাওনা চৌরাস্তায় পৌরসভার নামে টোকেন দিয়ে প্রতিদিন চাঁদা উঠানো হয়। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে চলাচলকারী প্রতি গাড়ি ও ভাসমান দোকান থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। এসব অবৈধ দোকানদাররা পদে পদে টাকা দিয়ে ব্যবসা করছেন।

বরমী হোটেলের সামনের চা দোকানী শহীদ জানান, নেতা-পুলিশ সবাইকে চাঁদা দিতে হয়। না হলে দোকান করা যায় না। এছাড়াও বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন মালিকরা রাস্তার মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে ইট, বালু, রড দিনের পর দিন ফেলে রাখায় এবং ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারী লোকজনকে।

শ্রীপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে টাকা উঠানোর বিষয়ে মেয়র মো. আনিছুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে অস্থায়ী বাজার ইজারা দেয়া হয় এর মানে এই নয় যে, কেউ রাস্তায় মধ্যে বাজার বসাবে।

মাওনা মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, পুলিশের নাম ব্যবহার করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা রাস্তার মধ্যে বাজার বসিয়েছেন এবং চাঁদা আদায় করে থাকেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ভাঙ্গার পর আবার তারা গড়ে তুলেন। চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।