🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১২ মে, ২০২১ ৷

গোপালগঞ্জে দুঃস্থদের ১০ টাকা কেজি দরের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ

❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে দুঃস্থদের ১০ টাকা কেজি দরের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দুঃস্থদের পরিবর্তে বৃত্তবানদের এ কার্ড দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধীরা কম মূল্যের চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হারিদাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা চাল ওজনে কম দেয়ার ঘটনার প্রতিরোধ করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

চাল কম দেয়ার খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশও ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে।
হারিদাসপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার আমিনুর রহমান মোল্লা জানান,খাগাইল গ্রামের ডিলার বদর মোল্লা গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে ৮ টন ৭ শ’ কেজি চাল উত্তোলন করেন। শনিবার সকালে খাগাইল বাজারে তিনি চাল বিতরণ শুরু করেন। প্রতি কেজি চাল ১০ টাকা হিসেবে ৩ শ’ টাকায় জন প্রতি ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা। কিন্তু ডিলার ট্যাগ অফিসারের সামনেই প্রথম ১ শ’ জনকে ৩০ কেজির স্থলে ২৮ কেজি করে চাল দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩ শ’ টাকা করে আদায় করেছে। এছাড়া দুস্থদের বঞ্চিত করে বৃত্তবানদের এক নামে একাধিক কার্ড দেয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

খাগাইল গ্রামের দুলাল মোল্লা বলেন, আমার কাছ থেকে ৩ শ’ টাকা রেখে ৩০ কেজির চালের স্থলে ২৮কেজি চাল দিয়েছে। আমার মতো আরো অনেককেই চাল ওজনে কম দেয়া হয়েছে।

৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আজিম শেখ অভিযোগ করেন, সাবেক মহিলা মেম্বর আকলিমা বেগম, তার স্বামী আব্দুল গনি, মা আনোয়ারা বেগমের নামে কার্ড দেয়া হয়েছে। বৃত্তবান কদর শেখ ও তার স্ত্রী মিনি বেগম কার্ড পেয়েছেন। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল রোকেয়া বেগম একই নামে ২টি কার্ড পেয়েছেন। ১নং ওয়ার্ডে বিল্ডিং এর মালিক ইউসুফ মোল্লা, আরজ আলী খান ও তার স্ত্রীর রাজিয়া বেগমের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। ইউনিয়ন জুড়ে এ ধরণের ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
২নং ওয়ার্ড মেম্বার মাসুদুল হাসান অভিযোগ করেন, বৃত্তবানদের কার্ড দেয়ায় আমার ওয়ার্ডে প্রতিবন্ধী চেরাগ আলী, দুস্থ গৃহবধূ বেগমের মতো অসংখ্য মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।

gopalgong-chal

হরিদাসপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার দীনেশ জয়ধর বলেন, চাল বিতরণের অভিজ্ঞতা আমার নেই। এটিই প্রথম। ডিলার বদর মোল্লা আমাকে জানান খাদ্য গুদাম থেকে তাকে চাল কম দেয়া হয়েছে। তাই ক্রেতাদের চাল ওজনে একটু কম দিতে হবে। প্রথম দিকে ৫/৬ জনকে ১কেজি করে চাল কম দেয়া হয়। পরে স্থানীদের প্রতিরোধের মুখে ওই ৫/৬ জনেকে ডেকে ১কেজি করে চাল দিয়ে দেয়া হয়।

ডিলার বদর মোল্লা বলেন, গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে আমাকে চাল ওজনে কম দেয়া হয়। একারণে প্রথম দিকে ওজনে কম দিয়েছি। পরে আমরা ওজন ঠিক করে দিয়েছি। বৃত্তবানদের কার্ড দেয়ার ব্যাপারে বলেন, এটি ভুল হয়েছে। তাদের কার্ড বাতিল করে দুঃস্থদের মধ্যেদেয়া হবে।

গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ গুপ্ত সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, গুদাম থেকে চাল ওজনে কম দেয়া হলে ডিলার বদর মোল্লা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা,জেলা খাদ্য কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান অথবা আমাকে জানাতে পারতেন। তিনি কাউকেই বিষয়টি জানাননি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, প্রাথমিক ভাবে ওজনে কম দেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ চাল ওজনে কম দেয়ার এখতিয়ার ডিলারের নেই। ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া দুঃস্থদের স্থলে বৃত্তবানদের কার্ড দেয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।