• আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সরকারের পদক্ষেপে যা ভাবছেন খালেদা ও তারেক


❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর – জিয়াউর রহমান এর শাসনামল আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে সরকার ধীরে ধীরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সব স্মৃতি চিহ্ন মুছে ফেলতে চাইছে। শুধু তাই নয়, তার বীর উত্তম উপাধিও বাতিল করার চিন্তাভাবনা করছে। সেই সঙ্গে ঢাকা থেকে তার কবর সরিয়ে তা বনানী সামরিক কবরস্থান কিংবা মিরপুরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করলেও এখন আর তা করছে না। তার কবর নিয়ে যাওয়া হতে পারে বগুড়ায় তার বাড়ির কাছে কোন কবরস্থানে। সরকারের নীতি ঢাকার মাটিতে জিয়ার কবর রাখা যাবে না। বিশেষ করে ওই কবরে জিয়ার কোন চিহ্ন নেই মনে করছে সরকার। আর এই কারণে এসব কিছু মুছে ফেলতে চাইছে সরকার এমনটা ধারনা করছে বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীরা।

ইতিমদ্ধ্যে এই খবর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কানেও পৌঁছেছে। তারা সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে। এই জন্য সারা দেশে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু মাঠের নেতাদের কাছ থেকে এখনও মাঠে নামার মতো কোন সংকেত তারা পায়নি।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জানতে পেরেছেন, মাঠের অনেক নেতাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। নতুন কমিটিতে সুবিধাজনক ও পছন্দমতো পদ না পাওয়া ও একই পরিবারের একাধিক নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখায় ও তারা স্থান না পাওয়ায় অনেক নেতার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্বও রয়েছে। এই সময়ে নেতারা পুলিশের বাঁধা উপক্ষো করে ও তাদের মোকাবিলা করে মাঠে নামতে চাইছে না। অবস্থা বিবেচনা করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, সরকার ও পুলিশের বাঁধার কারণে জিয়াউর রহমানের পদক বাতিল ও তা জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরও হরতাল সফল হবে না এই আশঙ্কায় হরতাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেবল বিক্ষোভ কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে। আর এখন হরতাল দিলে সেই হরতাল সফল না হলে সমস্যা হবে। এই কারণে আপাতত কোন কঠোর কর্মসূচী দিচ্ছে না।

khaleda-tarek-zia

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, জিয়ার সব চিহ্ন সরকার মুছে ফেলতে চাইছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারলে তারাও প্রতিশোধ পরায়ণ হবে। এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুরও সব চিহ্ন মুছে ফেলা হবে। আজকে তারা যা করছে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এর চেয়েও করুণ পরিণতি করা হবে আওয়ামী লীগের ও বঙ্গবন্ধুর।

ওই সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এখনও চান সরকার এই পথ থেকে সরে আসবে। জিয়ার চিহ্ন মুছে ফেলার পরিকল্পনা বাতিল করবে। সরকার যদি তা বুঝে তাহলে কোন সমস্যা নেই। নাহলে এই পরিণতি আওয়ামী লীগকে ভুগতে হবে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আপাতত কোন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছেন না। দলের সাংগঠনিক অবস্থা বিবেচনা করে তারা ধীরে চলা নীতি অনুসরণ করছেন। কিন্তু এখন তাদেরকে মাইনাস করার ফর্মুলা সরকার প্রায় বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমানের ইতিহাস মুছে ফেললেই জনগণের মন থেকে তাকে মুছে ফেলা যাবে না।

খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ একজন নেতা বলেন, পবিত্র হজ পালনের পাশাপাশি মা ও ছেলে তাদের পাবিরবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি দলীয় বিষয়ে আগামী দিনের করণীয় নিয়ে কথা বলবেন। তারেক রহমানের সঙ্গে এনিয়ে খালেদা জিয়ার পরামর্শ করবেন।