‘সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনে পিষ্ট মানুষের মনে ঈদের আনন্দ নেই’

⏱ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬ 📁 Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “দেশে এখন ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য চলছে। মানুষের জান, সহায়-সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকায় কোথাও কারও কোন জবাদিহীতা নেই। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দূর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, পানি, জ্বালানী তেল, গ্যাস, বিদ্যূতের তীব্র সংকট জনজীবনে দূর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে মানুষের মধ্যে ঈদ আনন্দ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভারে উপভোগ করা সম্ভব হবে না।”

পবিত্র ঈদ উল আযজা উপলক্ষ্যে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি একথা বলেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন এই বাণী দেন।

বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে প্রতি বছর ঈদুল আজহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আত্মোৎসর্গ করাই কোরবানির প্রধান শিক্ষা। কোরবানির প্রকৃত রূপ হলো মনের গভীরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও তাকওয়া নিয়ে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা। তাই উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা ইত্যাদি গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু ও কোরবানির মধ্যে ইহলৌকিক ও পরলৌহিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য। কোরবানির যে মূল শিক্ষা তা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যাণে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব।’

khaleda

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দেশে এখন ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য চলছে। মানুষের জান, সহায়-সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকায় কোথাও কারও কোনো জবাদিহিতা নেই। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পানি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের তীব্র সংকট জনজীবনে দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানুষের মধ্যে ঈদ আনন্দ নেই বললেই চলে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ অবস্থায় সবার পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভারে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। তাই আমি দেশের সব বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের আহ্বান জানাই-দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দিকে সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করার জন্য। ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে-সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে ঈদের আনন্দকে একসাথে ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে মিলে।’

ঈদুল আজহা সবার জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি, এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দে্যর মেলবন্ধন সৃষ্টি করুক আল্লাহর দরবারে সেই প্রার্থনা জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।