🕓 সংবাদ শিরোনাম

‘করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত বিপদজনক ভবিষ্যতের পূর্ভাবাস’কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গা নেতার বাসা থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধারহাজারো যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহপরাণ, ঘাট ম্যানেজারের অস্বীকার‘একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়?’কক্সবাজারে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতারঝালকাঠির কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া হত্যার বিচার দেখে মরতে চায় বাবা!সৌদিতে বাংলাদেশিসহ সকল প্রবাসীদের করোনা ভেকসিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছেকরোনায় বেসামাল ভারত, একদিনে আরও ৪০৯২ জনের মৃত্যুচীনা রকেটের সেই ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লো মালদ্বীপের কাছেঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাস

  • আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, বিকাল ৪:০৩

সোনামণির প্রসব বেদনার তীব্র চিৎকার শুনেও শুনলোনা হাজার হাজার মানুষ

❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

%e0%a6%9f%e0%a6%9fআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- সোনামণি  জাতীয় সড়কের ধারে তীব্র রোদ গাঁয়ে জড়িয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রসব বেদনায় চিৎকার করার পরেও যেন হাজার হাজার মানুষ শুনেও শুনলোনা তার চিৎকার। কেউ এগিয়ে আসেনি হাসপাতাল নিয়ে যেতে সোনামণিকে। অবশেষে রাস্তায় জন্ম দেন ফুটফুটে একটা পূত্র সন্তান। যখন সোনামণি খুব ক্লান্ত গাঁয়ে একফোট শক্তি নেই তখন কি আর করার, খোলা আকাশের নীচে সদ্য প্রসব হওয়া সন্তানকে নিয়ে শুয়ে রয়েছেন মা সোনামণি। পাশে বসে অসহায় আরো তিনটি ছোট ছোট সন্তান। পথচলতি মানুষ আছে, কিন্তু কেউই ফিরে দেখছে না। এমনই অমানবিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে থাকল ঝাড়খণ্ডের লাতেহার।

ওড়িশার কলাহান্ডির দানা মাঝি তার স্ত্রীর দেহ ঘাড়ে করে বহু পথ হেঁটে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ছবি দেখে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়েছিল। আর লাতেহারের হেসলা গ্রামের সোনামণি, ৭৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে খোলা আকাশের নিচেই পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন। বহু কাকুতি মিনতিতে তাকে ১০০ মিটার দূরের হাসপাতালে পৌঁছতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

পূর্ণ গর্ভবতী সোনামণি তার তিন সন্তানের আধার কার্ড তৈরি করানোর জন্য হেসলা গ্রাম থেকে বেরোন গত কাল দুপুরে। তার এক আত্মীয়া, মানু কুমারী বলেন, ‘‘ওই শারীরিক অবস্থার কারণে ওকে একা একা, তিনটে বাচ্চাকে নিয়ে সদরে যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু ও বলল, ওই দিনই ওকে যেতে বলা হয়েছে।’’

স্বামী নন্দকিশোর কাজে চলে যাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা সোনামণি একাই তিনটি বাচ্চা নিয়ে, দশ কিলোমিটার হেঁটে লাতেহারে আসেন। কিন্তু শুক্রবারের সপ্তাহান্তে ততক্ষণে সরকারি অফিসে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যা নেমে যাওয়ায় বাড়ি ফেরার পথে তিনি জাতীয় সড়কের ধারে একটা ধাবায় তিনটি বাচ্চাকে নিয়ে আশ্রয় নেন। রাতে ধাবা বন্ধ হয়ে গেলে তার পাশে একটা গাছের নিচে শুয়ে পড়েন তারা।

আজ লাতেহারের জেলা স্বাস্থকেন্দ্রে শুয়ে সোনামণি জানান, রাত থেকেই তার শরীর বেশি খারাপ করছিল। ভোর বেলা তার প্রচন্ড প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। পথচলতি সবার কাছেই তিনি হাতজোড় করে সাহায্য চান। কেউ এগিয়ে আসেনি। শেষে রাস্তার ধারেই তার বাচ্চা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কেউ হাসপাতালে খবর দেয়। কোন লাভ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা অজয় প্রসাদের অভিযোগ, ‘‘ওই হেলথ সেন্টারের এক অফিসার মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন। তাকে আমরা বিষয়টা জানাই। কিন্তু উনিও আমাদের কথায় কান দেননি।’’ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুরেন্দ্রপ্রসাদ সিংহকে খবর দিয়েও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। লাতেহারের এসপি অনুপ বিরথারে বলেন, ‘‘ফোনে গ্রামের লোকদের কাছে শুনেই মহিলাকে লাতেহারের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিই।’’
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বরাতজোর বেঁচে গিয়েছেন ওই মহিলা ও তার সদ্যোজাত। হাসপাতালের ডেপুটি সুপার এস পি সিংহ বলেন, ‘‘মা ও সদ্যোজাত, দু’জনেই এখন ভাল আছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ভাগ্যিস এ দিন ভোরে বৃষ্টি হয়নি।’’ মাত্র একশো মিটার দূরে থেকেও কেন তৎপরতা দেখায়নি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি? কেন অ্যাম্বুল্যান্স বা গাড়ি পাঠানো হয়নি? চিকিৎসক সুরেন্দ্র প্রসাদ নীরব।

তবে লাতেহার জেলার সিভিল সার্জেন রাজেশ্বর সিংহ গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘খবর পাবার পরে গাড়ি পাঠাতে দেরি হয়নি। আমাদের কাছে খবর আসে ছ’টা নাগাদ। আমরা পনেরো মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স পাঠাই। কিন্তু ততক্ষনে ওই মহিলার বাচ্চা জন্মে গিয়েছে। পরে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্সেই ওকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।