” টঙ্গীতে কারখানা বিস্ফোরণ” ঈদে সুলেমান বাড়ি ফিরল লাশ হয়ে, আর অবুঝ শিশুকন্যা ইকরা ধ্বংসস্তুপে খুঁজে ফিরছে বাবাকে


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬ অকালমৃত্যু প্রতিদিন, আলোচিত বাংলাদেশ, ঢাকা, ফিচার

নিউজ ডেস্ক সময়ের কণ্ঠস্বর :গত শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সকালে টাম্পাকো ফয়লস লিমিটেড নামের কারখানাটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই কারখানার তিনটি ভবন ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার দিনই ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

 উল্লেখ যে , ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ পযর্ন্ত  কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।এদিকে সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩০জন শোনা গেলেও এ সংখ্যা বেশি বলে ধারণা করছে কারখানার আশ পাশের বাসিন্দারা এবং রবিবার শেষ রাতে  উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী যোগ দিয়েছে।

শনিবার ভোরে সুলেমান বাসা থেকে বের হয়ে টঙ্গীর ট্যাম্পাকো কারখানায় যায়। কারখানার ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় তার। ইচ্ছা ছিল রোববার ঈদ বোনাস নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পিতামাতার সাথে ঈদ করবে। কিন্তু রোববার ভোরে সুলেমান বাড়ি ফিরল লাশ হয়ে।

 নিহত সলেমান

নিহত সলেমান

২০১০সালে গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীর ট্যাম্পাকো কারখানায় স্টোর শ্রমিকের কাজে যোগ দেয় সুলেমান (৩৫)। স্ত্রী নাছিমা, ছেলে নাসির (১০) ও মেয়ে লামিয়া (২) কে নিয়ে টঙ্গী পৌরসভার পূর্ব আরিচপুর এলাকার শহীদ স্মৃতি স্কুল রোডে ইউসুফ কন্টাকটারের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল সুলেমান।  কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আনুহা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,সুলেমানের বাড়িতে শোকের মাতম। নিহত সুলেমানের বাবা করিম বক্্র,মাতা খাদেজা বানু ও স্ত্রী নাছিমা খাতুন শোকে নির্বাক। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হোসেনপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিনা সারোয়ার জানান,নিহত সুলেমানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহব্বান  জানান।

আগুনে দগ্ধ একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। রবিবার সকাল সাতটা। টঙ্গীর ধসে যাওয়া ভবনের মূল ফটকে নানার কোলে বসে আছে চার বছরের শিশুকন্যা ইকরা। অবুঝ চোখজোড়া ধ্বংসস্তুপে খুঁজে ফিরছে বাবাকে। এমন সময় মৃত বাবার পোড়া সাইকেল দেখে কচি হাতের আঙ্গুল তুলে চিৎকার করে ওঠে মেয়েটি- ‘বাবা ওই…ওই…’।

tongi-trejedi-2

কারখানার সামনেই আগুনে পুড়ে পড়ে আছে কারখানার সহযোগি অপারেটর ওয়াহিদুজ্জামান স্বপনের ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি। অবুঝ শিশুটির আকুতি দেখে নানাও কেঁদে উঠেন। নানার সাথে আশপাশে থাকা লোকজনও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। পুড়ে যাওয়া টঙ্গীর ট্যাম্পাকো কারখানার ধ্বংসস্তুপের আশপাশে ঘোরার সময় এমন অসংখ্য হৃদয়বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে।

গাজীপুর জেলা তথা টঙ্গী এলাকায় এত বড় ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। এদিকে নানার কোলে থাকা অবুঝ শিশু তখনো জানে না তার বাবা আর নেই। কিংবা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

প্রতিদিন ওই সাইকেলে করে উত্তরাখান মুন্ডা এলাকার নিজ বাসা থেকে টঙ্গী ট্যাম্পাকো কারখানায় কাজে আসতেন স্বপন।

গত শুক্রবার রাতেও তিনি কাজে এসেছিলেন। কিন্তু প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে আর বাড়ি ফিরে যাননি। এদিন ভোরে কাজ শেষে কারখানা থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ আগমুহুর্তে হঠাৎ একটি বিটক শব্দ হয়। পরে কারখানায় আগুন লেগেছে এমন খবর শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানার অন্য শ্রমিদের সাথে স্বপনও দ্রুত সিড়ি বেয়ে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ধসে যাওয়া ভবনের ইট, কংক্রিট ও কাঁচের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসাপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান।