ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক, আহত ৪

⏱ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৬ 📁 বরিশাল

নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহা সড়কের প্রতাপ এলাকায় বাসের ধাক্কায় রিক্সা আরোহী মাদ্রাসার ছাত্র মেহেদী হাসান মারা গেছে আহত হয়েছে একই পরিবারের আরো চার জন।

আহতরা হলে নিহতের মা মনুজা বেগম (৩৫), বাবা জামাল হোসেন (৪২), ছোটবোন শিরিন (৮) এবং দাদি ফিরোজা বেগম (৬০)। বুধবার সকাল ১০ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

truckপুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, ভৈরবপাশা ইউনিয়নের লক্ষনকাঠি গ্রাম থেকে রিক্সা চালক জামাল তার স্ত্রী মনুজা বেগম, দুই শিশু সন্তান ও মাকে নিয়ে ঝালকাঠি আসছিল। এ সময় প্রতাপ এলাকায় আসলে পেছন দিক থেকে ঝালকাঠি গামী একটি যাত্রীবাহি বাস জে,আর পাবনা ব-৭৩ রিক্সাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। আসংকা জনক অবস্থায় শিশুটির মাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তিকরা হয়েছে।

নলছিটি থানার ওসি সুলতান মাহামুদ জানান, ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। নিহতের ময়না তদন্তের বিষয়ে তিনি জানান, লাশ সদর হাসপাতালে থাকায় বিষয়টি ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ দেখবেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতারের দিন  ধর্ষন মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামীর নেতৃত্বে ধর্ষিতার পিতা-মাতাকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকালে ঝালকাঠির নলছিটিতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার চার্জশীটভূক্ত পালাতক আসামী নারীখেকো কবির জোমাদ্দারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধর্ষিতার পিতা-মাতাকে ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নলছিটি উপজেলার পোষন্ডা গ্রামের মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জেলা বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ধর্ষক কবির জোমাদ্দারের উপস্থিতিতে এ হামলা চালানো হয়। হামলায় ধর্ষন মামলার প্রধান স্বাক্ষী মা জোসনা বেগম (৪০) কে কুপিয়ে ও বাবা আঃ মন্নান খান (৫৫) কে পিটিয়ে আহত করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সন্ধ্যায় আশংকা জনক অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

হাসপাতালে উপস্থিত ধর্ষিতার আহত পিতা ও বোনেরা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে নারী খেকো কবির জোমাদ্দার বিভিন্ন ভাবে মামলা তুলে নিতে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ও কয়েক লাখ টাকা দিয়ে মুখবন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী সহ তার পিতা-মাতা ল্যম্পট কবির জোমাদ্দারের বিচারের দাবীতে অনঢ় থাকায় কোন ভাবে তাদের বশ করতে পারেনি। নলছিটি থানা পুলিশকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে হাত করলে নির্যাতিতরা বিচারের দাবীতে অটল থাকায় ও মামলার প্রতিটি পর্যায়ে সাংবাদিকরা মিডিয়ায় তুলে ধরায় পুলিশ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে।

এঅবস্থায় টাকার জোরে পুলিশের গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলা কোটিপতি নারীখেকো কবির জোমাদ্দার তাদের আপোশ করাতে ভিন্ন পন্থা অবলম্ভন করে ও অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মন্নান সিকদার, ইউপি যুবলীগ-ছাত্রীগের কতিপয় নেতাকে দিয়ে ক্রমাগত ভয়ভীতি-হুমকি-ধূমকি দিতে শুরু করে। এ বিষয়টি জানিয়ে অসহায় পরিবারটি নলছিটি থানায় একাধিক বার অবহিত করে সাধারন ডায়রী করতে চাইলেও পুলিশ তাদের অভিযোগ জিডিভূক্ত করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এঅবস্থায় নির্যাতিত পরিবারকে দমন করতে স্থানীয় নুরইসলাম, মহিলা মেম্বারের স্বামী আল আমিন ও মিন্টু সহ তার ভাড়াটে দলবল নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকাল ৩টায় এ হামলা চালায় বলে তারা জানায়।

dhorধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী ও তার আহত পিতা অভিযোগ করেন, ইতিপূর্বে ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নারীখেকো কবির জোমাদ্দার নলছিটি থানার তৎকালীন ওসি ও এসআইকে ৫লাখ টাকা দিয়ে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী সহ তার অসহায় পরিবারকে চুরি মামলা দিয়ে জেলে ডুকিয়ে ছিল। এবারও তেমনি সহিংসতা ধামাচাপা দিতে অর্থশালী ধর্ষক কবির নিজে বিকালেই বরিশাল থেকে বিমানযোগে ঢাকায় সটকে পরে। আর তার সহযোগীতায় জোমাদ্দার বাহিনীর ক্যাডার নুরইসলাম, মহিলা মেম্বারের স্বামী আল আমিন ও মিন্টু উল্টো ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। তাই ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী ও তার পিতামাতা ‘নরপশু কবির জম্মাদ্দার ও তার বাহিনীর হাত থেকে প্রান রক্ষার জন্য’ ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে আকুতী জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে বুধবার সকালে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর মাধ্যমে তার আহত পিতা আঃ মন্নান খান বাদী হয়ে ল্যম্পট কবির জমাদ্দার সহ ৭জনের বিরুদ্ধে হামলা, ধর্ষন মামলার প্রধান স্বাক্ষী মা জোসনা বেগম (৪০) কে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ সুলতান মাহমুদ থানা কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় ডিইটি অফিসার অভিযোগটি রিসিভ করে রাখেন।

প্রসঙ্গত, পূর্ব গোদন্ডা গ্রামের মৃত কদম আলী জমাদ্দারের পুত্র নারী পিপাসু ল্যম্পট কবির জমাদ্দার কয়েক বছর পূর্বে একই এলাকার গরীব অসহায় আঃ মন্নান খানের কন্যাকে গৃহকর্মীর চাকুরী দিয়ে ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই পিস্তল ঠেকিয়ে ধর্ষন করে ও এ বিষয় কাউকে কিছু বললে তাকে সহ তার পিতা-মাতাকে গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেয়। এরপর থেকে তাকে লাগাতার কয়েক মাস ধর্ষন করায় সে অন্তস্বত্তা হয়ে পরলে নিজেকে বাঁচাতে সে স্কুলছাত্রীকে বরিশালের এক ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করায়। এঅবস্থায় স্কুলছাত্রীটি গত ৮ জানুয়ারী ২০১৬ইং তারিখ তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করার পর নারীখেকো কবিরের বিষয়টি তার পরিবারে জানাজানি হয়ে।

এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৩১ জানুয়ারী ২০১৬তারিখ নারীখেকো কবির জোমাদ্দার ধর্ষিতাসহ তার পিতা, চাচতো ভাই-বোন সহ ৫জনের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক চুরি মামলা দায়ের করলে তাথেকে থেকে জামিন লাভ করে স্কুলছাত্রী ঝালকাঠি ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে নারীখেকো কবির জমাদ্দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিগত কয়েকমাস ধরে কোটিপতি নারীখেকো কবির থানা পুলিশ ও স্থানীয় কতিপয় কুচক্রিকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী সহ তার পরিবারের উপর নানাপ্রকার ভয়ভীতি, হয়রানি একের পর এক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।