ছয় দিনেও খোঁজ মেলেনি টাঙ্গাইলের জহিরুলের

⏱ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৬ 📁 ঢাকা, দেশের খবর

download-1-copyঅন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

ঢাকা বিভাগের গাজীপুরের টঙ্গীর প্যাকেজিং কারখানা টাম্পাকো ফয়লসে আগুন লাগার ঘটনার ছয়দিন পরও ওই কারখানার শ্রমিক টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় জহিরুল ইসলামের খোঁজ মেলেনি।

জাহিরুলের বাড়ি মির্জাপুরের জামুর্কী ইউনিয়নের উফুকী গ্রামে। জাহিরুলের পিতার নাম মৃত আবুল হোসেন।
তিনি ওই কারখানায় প্রিন্টিং অপারেটর হিসেবে কমর্বত ছিলেন।

গত শনিবার ওই কারখানায় অগ্নিকান্ডের খবর বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রচারের পরই তার মা জেলেকা বেগম, স্ত্রী জাবেদা বেগম ও তিন বছরের একমাত্র সন্তান নাহিদকে নিয়ে জহিরুলের চাচা হাবিবুর রহমান তার খোঁজে টঙ্গী চলে যান।

এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে খুজেও তার হদিস না পাওয়ায় ঈদের দিন সকালে চাচা হাবিবুর রহমান বাড়ি ফিরে আসেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, চার বছর আগে জহিরুলের পিতা আবুল হোসেনের মৃত্যু হলে তার ছোট বোনের বর টঙ্গীর সিনমুন বাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জহিরুলকে ওই কারখানায় প্রথমে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি দেন। পরে নিজ দক্ষতা বলে সে প্রিন্টিং অপারেটর হিসেবে পদোন্নতি পান।

বর্তমানে সব মিলিয়ে তার বেতন হয়ে ছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এই বেতনের টাকায় তার পরিবারের ব্যয়ভার মিটতো বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে চাচা হাবিবুর রহমান আরও সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, শনিবার ফজরের নামাজের শেষে জহিরুল তার মা জেলেকা বেগমকে ফোন করে বলেছিল ২টা পর্যন্ত ডিউটি করে ওইদিনই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসবে।

কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই ওই কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। সেই থেকে জহিরুল নিখোঁজ রয়েছেন।

জহিরুলের ছোট বোনের স্বামী আলাউদ্দিন সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, আগুনের ১০ মিনিট আগে জহিরুল কারখানায় ঢুকে। এখনও জহিরুলের খোঁজে তার মা জেলেকা বেগম, স্ত্রী জাবেদা বেগম টঙ্গীতে অবস্থান করছেন। কিন্তু তার কোন খোঁজ মেলেনি।

জহিরুলের আত্মীয় পাশের বরাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আজমত আলী জানান, বসতভিটি ছাড়া জহিরুলদের আর কোন সম্পত্তি নেই। ওই কারখানার চাকরিটিই ছিল তার পরিবারের আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। এখন ওই পরিবারটি চলবে কীভাবে সেটায় এলাকাবাসীর চিন্তা।