ঈদের ৪র্থ দিনেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে ঈদুল আযহার ৪র্থ দিনেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো পার্ক এলাকা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় দর্শনার্থীদের চাপ।

unnamedসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায় গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে। দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। আশপাশ এলাকায় পুুরো পার্কিং এরিয়া দর্শনার্থীদের গাড়ী জায়গা করে নেয়। বাড়তি লোকের চাপ সামালতে হিমশিম খাচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করছে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ, ট্যুরিষ্ট পুলিশ, বন কর্মীসহ স্বেচ্ছাসেবী কর্মী। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে চড়ে কোড় সাফারীতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সাদা সিংহ, সিংহ, ভাল্লুক, হরিণ, ওয়াইল্ড বিষ্ট, জেব্রা, জিরাফ দেখতে দর্শনার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে রোদে পুড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রোদ থেকে বাঁচতে অনেকেই আসে ছাতা হাতে। পরিবার পরিজন নিয়ে সাফারী কিংডমে ঘুরতে দেখা গেছে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের। ঈদ উপলক্ষ্যে আঘত দর্শনার্থীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার ৫/৬ গুন ছাড়িয়ে যায়। বাড়তি লোকের চাপ সামলতে হিমশিম খেতে হয় কর্মীদের।

ঢাকার মিরপুর থেকে পার্কে ঘুরতে আসা শরিফ মিয়া জানান, কোড় সাফারীতে আরও বেশী গাড়ী দিয়ে দ্রুত ভ্রমনের ব্যবস্থা করা দরকার। গাজীপুরের স্বর্না বেগম জানান, রোদে পুড়ে কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকা বয়স্ক, নারী শিশুদের জন্য খুবই কষ্টকর, নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলে খুব ভাল হতো। ভালুকা থেকে আসা আরিফ জানান, ঈদ আনন্দে পার্ক ভ্রমন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে জামেলা মুক্ত পরিবেশে দিনভর মনের আনন্দে বেড়ানো যায়।

পার্কের বিট কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ জানান, দর্শনার্থীদের স্বচ্ছন্দে পার্ক ভ্রমনে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সহকারী বন সংরক্ষক ও পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন মিয়া জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোন অপৃতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইন্দ্রপুর ও গাজীপুর সদরের পিরুজালী এলাকার শাল-গজারীপূর্ণ তিন হাজার ৬৯০ একর জমিতে বন বিভাগ পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর পার্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।