• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

আইএস ঘাটি থেকে পালিয়ে আসা যৌনদাসী জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত !


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের ডেরায় যৌন দাসী হিসাবে কয়েক মাস কাটানো ইরাকের ইয়াজিদি (অমুসলিম) সম্প্রদায়ের তরুণী নাদিয়া মুরাদ ফের আলোচনায়। জাতিসংঘ আজ শুক্রবার তাঁকে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যৌন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে আইএসের ডেরা থেকে পালিয়ে জার্মানি গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলে আর তখনই নাদিয়া সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানতে পারে। জানতে পারে জঙ্গি সংগঠনের হাতে তাঁর বাবা-মা হারানোর করুণ কাহিনী।

5636তখন ২০১৪ সাল, নাদিয়া সবে ১৯-তে পা দিয়েছে। একদিন ইরাকের একটি গ্রাম থেকে নাদিয়াকে তুলে নিয়ে যায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা। এরপর চলতে থাকে তার ওপর যৌন নির্যাতন। নাদিয়ার সামনেই তার বাবা এবং ভাইকে হত্যা করে আইএস জঙ্গিরা। টানা তিন মাস নাদিয়াকে নিজেদের জিম্মায় রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে আইএস জঙ্গিরা। এমনও দিন গেছে, একসঙ্গে ছয় জঙ্গি মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় অজ্ঞান হয়ে পড়তো নাদিয়া।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সম্মেলনে প্রথমবার নাদিয়া আইএসের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেন। নাদিয়া মুরাদ জানান, তাকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করত আইএস। সেখানে কি ধরনের নির্যাতন চালানো হতো তা বুঝাতে পারবো না। আমার সঙ্গে আরও অনেক মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হতো। ধর্ষণ করার আগে মেয়েদেরকে আবার নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো। প্রতিদিনই জঙ্গিদের যৌন অত্যাচার সহ্য করা হতো।

শেষ পর্যন্ত নাদিয়া সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তিনি জার্মানিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখানেই চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। এর পরই নাদীয়া সম্পর্কে জানতে পারে বিশ্ববাসী। সেই সঙ্গে মানুষ জানতে পারে আইএস জঙ্গিদের নির্মমতার নতুন নতুন দিক।

নাদিয়া তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লিখেছেন, গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং মানবপাচারের শিকার নারীদের নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। তাদের সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চান। জাতিসংঘে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তার স্বপ্নপূরণ এখন অনেক সহজ হবে। জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে বলেছে, নাদিয়া এখন থেকে পাচার ও নির্যাতনের শিকার অগণিত নারীদের সহযোগিতা এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।