আমতলীতে গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষন শেষে হত্যা • গণধর্ষনের শিকার এক শিশুও

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৬ অপরাধ, দেশের খবর, বরিশাল, স্পট লাইট

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি-

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হেলেনা (২১) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষন শেষে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হেলেনা মৃত আবদুর জব্বার চৌকিদারের মেয়ে। সে ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে কাজ করতো।

rape-narayanganjহেলেনার ভাই মিজানুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে গত শনিবার হেলেনা ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। বৃহস্পতিবার সকালে তার ছোট বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সবাই মিলে তাকে পটুয়াখখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। হাসপাতালে ভর্তি শেষে মা এবং ভাইকে হাসপাতালে রেখে বিকেলে হেলেনা বাড়ি চলে আসেন।

ঘড়ে আর কোন লোকজন না থাকায় রাতের খাবার শেষে ঘরে একাই ঘুমিয়ে ছিলেন হেলেনা। গভীর রাতে দুস্কৃতিকারীরা ঘরের সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে হেলেনাকে গনধর্ষন শেষে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এসময় হেলেনার বাড়ির অন্য ঘরের লোকজন হেলেনার গোঙানি শুনে ঘরে ঢুকে দেখেন হেলেনার মৃত দেহ মাটিতে লুটিয়ে আছে। হেলেনার মাথায় আঘাতের চি‎‎হ্ন রয়েছে।

নিহতের ভাই মো. মিজানুর রহমান আরো জানান, আমাদের পাশ্ববর্তী খালা জয়নব বিবির পরিবারের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। তারা আমার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন সময় জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। আমাদের সম্পতি ভোগ দখলের জন্যই তারা পরিকল্পিতভাবে বাইরের লোক দিয়ে আমার বোনকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে। পুলিশের ধারণা, পূর্ব শক্রতার জের ধরে ধর্ষন শেষে খুন হতে পারে মেয়েটি।

গার্মেন্ট কর্মী খুনের খবর পেয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সহকারী পুলিশ সুপার কাজী কাউয়ুম, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, হেলেনার ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে থানায় খালাতো ভাই মাসুদ ও খালু আবদুল বারেকসহ অজ্ঞাত নামা আরো কয়েজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ফকিরখালী গ্রামে গত মঙগলবার রাতে মৃতঃ কাঞ্চন হাওলাদারের ১২ বছরের শিশু গণধর্ষনের স্বীকার হয়েছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় ধর্ষিতার ভাই সোহেল গাজী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।

জানা গেছে, ঈদ-উল আযহার দিন রাতে ধর্ষিতার ভাই সোহেল গাজী ঢাকা থেকে বাড়ি আসার কথা । বাড়িতে ভাইকে নিয়ে আসার জন্য বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে থাকলে একই গ্রামের মোটরসাইকেল চালক নান্নু শিশুটিকে বলে আমার সাথে মটরসাইকেলে ওঠো, আমি তোমার ভাইকে নিয়ে আসবো। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে মটরসাইকেলে উঠলে শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী সাহু মিয়ার ইটের ভাটায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে এবং অপর চার বন্ধুকে খবর দিয়ে তাদের কাছে তুলে দিয়ে সে চলে যায়। ওই চার বন্ধু মিলে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষন করে পালিয়ে যায়।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, মামলা হয়েছে। ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন :