টঙ্গী ট্র্যাজেডি: স্বজনদের বিশ্বাস ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা পড়ে আছে লাশ

১১:৪০ অপরাহ্ন | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   টঙ্গীতে বিধ্বস্ত কারখানা টাম্পাকোর উদ্ধার তৎপরতা শেষ। মিলল না মৃতদেহ। স্বজনদের বিশ্বাস ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা পড়ে আছে লাশ ।

টাম্পাকো দুর্ঘটনায়  ছয়টি লাশ এখনো ঢামেক মর্গে পড়ে আছে। কিন্তু তাদের লাশ কেউ শনাক্ত করতে পারছেন না। কারণ লাশগুলো বিকৃত অবস্থায় রয়েছে। তাদের ডিএনএ টেস্ট ছাড়া শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

tongggi

নিখোঁজ জহিরুল ইসলাম ও আজিমুদ্দিনের পরিবার শুক্রবারও কন্ট্রোল রুমে এসেছেন। খোঁজ নিয়েছেন তাদের স্বজনের লাশ পাওয়া গেছে কি না বা আদৌ পাওয়া যাবে কি না?

আজিমুদ্দিনের স্ত্রী পারভীন আক্তার ঘটনার দিন থেকেই এখানে নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে অপেক্ষা করছেন। তার স্বামী সকাল ৬টার মধ্যেই অফিসে প্রবেশ করেছিলেন। প্রিন্টিং অপারেটর হিসেবে আজিমুদ্দিন কর্মরত ছিলেন বলে জানান পারভীন আক্তার।

তিনি জানান, আজিমুদ্দিন সকালে কার্ড পান্স করে অফিসে প্রবেশ করেছিলেন এ ব্যাপারে ঢামেকে চিকিৎসাধীন রিপন দাস ঘটনার দিন তাকে বলেছিলেন। রিপন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কিন্তু আজিমুদ্দিনের লাশ কিংবা তার খোঁজ এখনও অজানাই রয়ে গেছে। স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই আসছেন টাম্পাকোতে। তার বুকফাটা আর্তনাদে পথচারীরাও খানিক থমকে দাঁড়ান। চোখের জল শুকিয়ে গেছে পারভীনের। তার আশা, স্বামীকে জীবিত না পেলেও লাশটা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান।

অন্যদিকে, স্ত্রী ও দুলাভাই প্রতিদিন আসছেন জহিরুল ইসলামের  খোঁজে। জহিরুলও প্রিন্টিং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন টাম্পাকোতে। নিখোঁজের তালিকায় তার নাম থাকলেও তার সন্ধান এখনও পাননি স্বজনরা। স্ত্রী তার শোকে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে আছেন বলে জানান তার দুলাভাই আলাউদ্দিন।

শুক্রবার তিনি জহিরুলের ছবি নিয়ে কন্ট্রোল রুমে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিখোঁজদের ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারছে না। আমরা নিজেরাই ঢামেকে দৌঁড়াচ্ছি।

এ ব্যাপারে কন্ট্রোলরুম-১ এর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, আমাদের কন্ট্রোল রুমে সবার জন্যই সমান সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আমরা সবকিছুই অবজার্ভ করছি। আহত, নিহত ও নিখোঁজদের আপডেট সবকিছুই আমাদের কাছে আছে। এছাড়া পুলিশ কন্ট্রোলরুমেও রয়েছে।

আহত ও নিহতদের পরিবারদের জন্য কী করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি  জানান, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া আছে। তবে তাদের পরিবারকে অবশ্যই নিজ এলাকার চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে হবে। তারপর যাচাই করে তাদের কাছে অনুদান হস্তান্তর করা হবে। আর যাদের লাশ এখনও শনাক্ত করা যায়নি তাদের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।