৩ মাসেও খোঁজ মেলেনি গরীব কৃষকের বাকপ্রতিবন্ধি মেয়ের


❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট

পলাশ মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার/মোশারফ হোসাইন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট গ্রামের গরীব কৃষক আব্দুল মান্নান মন্ডলের বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে শাবানা নিখোঁজের ৩ মাস পরও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ মোছাঃ শাবানা আক্তারকে (২৪ ) স্থানীয় শৈলাট মেডিকেল মোড়ের ছফুদ আলীর ছেলে নেওয়াজের সঙ্গে বিয়ে দেন ৭ মাস আগে। সতিনের ঘর ও মেয়ে বোবা বলে স্বামীর ইচ্ছায় শাবানাকে নিজ বাড়িতেই রাখতেন কৃষক আব্দুল মান্নান।

gazipur1-md20160606053746শাবানার বাবা কৃষক মান্নানের অভিযোগ, শাবানার সতিন বিভিন্ন ভাবে তার মেয়েকে অত্যাচার, নির্যাতন করতো এবং সংসার না করতে দেয়ার হুমকিও দিয়ে আসছিল। সে কারণেই মেয়েকে নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

তিনি আরও জানান, গত ৩ মাস আগে ৩০ মে শাবানার বড় বোনের মেয়ে রুমি আক্তার নিজের চাকরীর খুঁজের কথা বলে শাবানাকে সাথে নিতে চাইলে মান্নান বাধা দেন। রুমি সখিপুর উপজেলার, কালমেঘা গ্রামের আঃ রশিদের মেয়ে। পরবর্তী এক পর্যায়ে শাবানাকে বাড়ীতে একা পেয়ে রুমি তাকে ভালুকা নিয়ে যায়।

শাবানার বড় ভাই শাহজাহান মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনটা কথা বলতে না পারার সুযোগে বাড়ি থেকে গোপনে তুলে নিয়ে যায় রুমি। শাবানাকে সাথে নিয়ে সারা দিন ভালুকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে রুমি। পরে রাতে স্কয়ার মাস্টার বাড়ীতে এসে কালমেঘা গ্রামের সাদু মিয়ার ছেলে কদ্দুসের হাতে তুলে দেয় শাবানাকে। এ বিষয়ে রুমিকে সন্দেহ হলে রাতে যখন রুমির মোবাইলে ফোন করি তখন রুমি জানায় শাবানাকে আমার হাত থেকে কদ্দুস তুলে নিয়ে গেছে, কদ্দুসকে সহযোগীতা করেন, আহসান আলী ও আসাদ আলী। আমি এখন একা বসে আছি স্কয়ার মাস্টার বাড়ীর একটি চায়ের দোকানে। বিষয়টি জেনে দ্রুত শাবানার স্বামী নেওয়াজ আলী ও ভাই শাহজাহান মন্ডল সে রাতেই ২টার সময় রুমিকে ধরে নিয়ে আসে শৈলাট বাজারে।

এ নিয়ে গাজীপুর ইউনিয়নের ২ নং ওর্য়াডের মেম্বার ছাইফুল ইসলাম বাচ্চু ও স্থানীয় নেতাদের কাছে নালিশ করলে কয়েক বার গ্রাম্য শালিস বসে কিন্তু এতে কোন সমাধান হয়নি, না হওয়াতে গত ৭-০৫-২০১৬ তারিখে ভালুকা মডেল থানায় শাবানার বাবা একটি জিডি করেন, জিডি নং- ১২৭।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রুমি আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, কদ্দুস আমাকে চাকরী নিয়ে দিবে বলে গত ৩ মে কাছিনা বাজার আমার নানীর বাড়ি যেতে বলে। আমি সরল মনে আমার সঙ্গে শাবানাকে সঙ্গী করে নিয়ে যাই। কাছিনা বাজারে গেলে কদ্দুস কে না পেয়ে ফোন করি, কদ্দুস বলে তুমি সিডষ্টোর বাজারে আসো, সেখানে অপেক্ষা করে না পেয়ে ফোন করি, সে আমাকে ভালুকা যেতে বলে, সেখানেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করি, কিন্তু কদ্দুসের দেখা না পেয়ে ফোন করলে কদ্দুস আমাকে স্কয়ার মাস্টার বাড়ীতে যেতে বলে। রাত ৯টার সময় স্কয়ার মাস্টার বাড়ীতে, গাড়ী থেকে নামা মাত্রই কদ্দুস আমার হাত থেকে শাবানানে জোড় করে নিয়ে যায়। আর আমাকে আটকে রাখে। আহসান ও আসাদ বলে তুমি চিৎকার করলে তোমাকে মেরে ফেলব, ভয়ে আমি চুপকরে থাকি। এক পর্যায়ে ওরা আমাকে রাত ২টার সময় ফেলে চলে যায়। পরে শাবানার স্বামী ও বড় ভাই স্কয়ার মাস্টার বাড়ি আসলে আমি তাদের সাথে, শাবানার বাড়িতে যাই। সেখানে ওনারা আমাকে ঘটনার সাথে জড়িত দাবি করে ১৯ দিন আটকে রাখেন ।

কৃষক মান্নানের দাবি যারা আমার মেয়েকে ধরে নিয়ে গেছে তাদের সাথে রুমির যোগাযোগ ছিল। রুমি তাদেরকে আমার মেয়েকে তুলে নিতে সহযোগিতা করেছে। তিনি আরো জানান এ বিষয়ে শ্রীপুর থানাতে অভিযোগ করতে গেলে তারা সে অভিযোগ গ্রহন না করে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।