সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুর থেকে প্রতি বছর ৩০ কোটি টাকার বিষাক্ত সুপারি যায় ১৬ জেলায় !

১১:১৮ অপরাহ্ন | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর, স্পট লাইট

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট-

নীলফামারীর সৈয়দপুরের আড়ৎ হতে প্রতি মৌসুমে ৩০ কোটি টাকার হাইড্রোস মিশ্রিত বিষাক্ত কাঁচা সুপারি উত্তরের ১৬ জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ হচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এ বিষাক্ত কেমিকেলযুক্ত সুপারি সেবনে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছে।

25656366বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো সেবনে লিভার, কিডনি বিকল কিংবা ক্যান্সারের মতো মরন ঘাতক ব্যাধি শরীরে ছড়াতে পারে। তারপরেও নজর নেই সংশ্লিষ্টদের। তাই এ বিষাক্ত সুপারি সরবরাহ বন্ধে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারি সুপারির আড়ৎ হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর। এ আড়তের ব্যাবসায়িরা দেশের দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, পঞ্চগড়, চিলাহাটি হতে পানিতে পচা সুপারি আমদানি করেন। পরে পাশ্ববর্তীসহ প্রায় ১৬ জেলার ব্যাবসায়িরা এ আড়ৎ হতে সুপারি কিনে নিজ নিজ এলাকায় সরবরাহ করেন। এতে ব্যপক সুপারি সরবরাহ হয় এ বাজার হতে।

আর ওই আড়তের ট্রাক আনলোড কারী আনোয়ার নামে এক শ্রমিক জানান, জুলাই মাস হতে শুরু করে ১০ মাস কাচা সুপারির ট্রাক আসে এ আড়তে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ শত বস্তা এখানকার আড়তদারের গোডাউনে ঢোকে। এগুলো শুধুই গাঢ় হলুদ রঙয়ের। পাইকারি সুপারি ব্যাবসায়িরা জানান, এখানকার আড়তদারের কাঁচা সুপারিগুলো যায় উত্তরাঞ্চলের সব জেলার বাজারে। খুচরা ব্যাবসায়িদের এ সুপারির প্রতি আগ্রহ বেশি ও তুলনামুলক সস্তা দরের কারনে। শুকনা সুপারি ৩ মাস পাওয়া যায়। এর পর পুরো বছরেই এ সুপারির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে হাইড্রোস মিশ্রিত করে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসাায়িরা সুপারি পাঠালে পানি পঁচার বিকট গন্ধ থাকে না। আবার রংটা ভালো থাকে। পাশাপাশি এটি সহজে নষ্ট হয়না।

এ বাজারের আরিফ নামে এক পাইকারি সুপারি ব্যাবসায়ি জানায়, বর্তমানে ১ বস্তা সুপারির মুল্য ১ হাজার ৮শত টাকা। তাই ৩০ কোটি টাকার সুপারি পুরো মৌসুমে আমদানি-রফতানি হয়। এ পানিতে পঁচা সুপারি নিয়ে শহরের কুন্দল এলাকার পান দোকানদার তৈয়ব আলী ও বিজলী সিনেমা রোডের আকবর জানান, শতকরা ৮০জন পানসেবী এ কাঁচা সুপারিযুক্ত পানে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কাঁচা সুপারিযুক্ত পান বিক্রয় করছি। তবে ক্ষতির কথা না জানলেও এতে হাইড্রোস মিশ্রিতের কথা স্বীকার করেন পান দোকানিরা।

দীর্ঘদিন যাবত বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত সুপারির এ ব্যবসা চললেও এ তথ্য জানেন না বলে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ অহিদুল হক জানান। তবে মানবদেহের জন্য এমন ক্ষতিকর সুপারি যারা বাজারজাতে সহায়তা করছে তা তদন্ত করে উর্ধ্বতনদের নিয়ে বন্ধের ব্যাবস্থা করবেন বলে মতামত দেন।

এদিকে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাইড্রোস হচ্ছে একটি বিষাক্ত কেমিক্যাল। এটি কোন ভাবেই প্রানির দেহে সামান্য পরিমান সেবনের অনুমতি নেই। এর ক্ষতিকর প্রভাবে কিডনি, লিভার ফেইলর ও শরীরের যে কোন স্থানে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতভাগ রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহাজুর আলম সুমন বলেন, এ সুপারিসেবীদের ঠোঁটের দুই কোনে সাদা ঘা দেখা যায়। এ ছাড়া মরনব্যধি তো রয়েছে। যা বন্ধে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গীর সাথে। তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাই ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।