🕓 সংবাদ শিরোনাম

কর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরবত্রিশালে সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুতে নিহতের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতমকলাপাড়ায় এক সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধারটাঙ্গাইলে কৃষক শুকুর মাহমুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার-১ফরিদপুরে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিতজামালপুরে ঘর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিন জনের মৃত্যু

  • আজ সোমবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৭ মে, ২০২১ ৷

ঈদের আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তিস্তা, এক টুকরা ঈদের গোস্ত মুখে উঠেনি ওদের


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৬ জাতীয়

%e0%a7%8b%e0%a6%be%e0%a7%8d%e2%80%8c%e0%a7%8dসময়ের কন্ঠস্বর ডেস্কঃ- ঈদ মানে যেন আনন্দের স্রোতধারা। গোটা মুসলমান জাতিকে এ আনন্দের স্রোতে ভাসাতেই ঈদ আসে বার বার। কিন্তু এবারের ঈদের সবটুকু আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তিস্তা। তিস্তা পাড়ে আশ্রয় নেয়া গৃহহারা পরিবারগুলোর জীবন ফিকে হয়ে আসছে। ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে রাক্ষুসী তিস্তা। আনন্দের বদলে পরিবারগুলোর মাঝে পড়েছে বিষাদের ছায়া। মুখে হতাশার ছাপ। ঈদে এক টুকরা মাংস তাদের মুখে উঠেনি। পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের আর্তনাদ আর আহাযারির নিদারুন সুর যেন শিতল করে দিচ্ছে গোটা মানব জাতিকে।

এবার ঈদোত (ঈদে) হামার মুখত এক দুল্যাহ (একটু) গোস্তা উঠেনি। ঈদ যে কুদি গেল হামা (আমরা) কবার পাং না। পোলা পানরা কান্দে (কাঁদে) গোস্তার লাহান (জন্য) কোটে পায়া দেন বলেন তো বাহে? এবার তিস্তা নদী যে সব ভাসি নিয়া গেছে। ঈদ করবার পাং নাই (পারিনি)। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন তিস্তা পাড়ে সিলডাবে আশ্রায় নেয়া মধ্যবয়সী নুরজাহান বেগম।

সরেজমিনে তিস্তা পাড়ে সিলডাবে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আনন্দের বদলে কান্নার রোল। শিশুদের মুখে হাসি নেই। শিশুরা বালুর মাঝে খেলছে। ওরা ভুলে গেছে ঈদের আনন্দ, ভুলে গেছে নতুন জামা পরতে।

সংবাদকর্মীকে দেখে ছুটে আসে কয়েকজন মধ্যবয়সী নারী। বলতে থাকে আমাদের জন্য কি নিয়ে আসছেন? অনেক নারী চিনতে পেরে বলেন, বাহে তোমা তো একবার হামাক শুকনা খাবার দিছেন সেই থেকে আর কেহ হামার খবর নেয় না।

তিস্তা নদীর কয়েক দফা বন্যায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার গৃহহারা হয়ে আশ্রায় নিয়েছেন তিস্তা নদীর পাড়,পাউবো গাইড বাঁধ, হ্যালি প্যাডে।

তিস্তার সিলডাবে আশ্রয় নেয়া আনোয়ারা খাতুন (২৮) বলেন, থাকার জায়গা ঘরে খাওন নাই কিভাবে ঈদ করুম। পোলা পানরা নতুন জামা ও খাওনের জন্য কাঁদে কি করুম। ঘরে কিছুই নেই।

সানিয়াজান ইউনিয়নের বাঘোর চরের আব্দুল লতিফ (৪৫) বলেন, এবার বন্যায় ৭০ শতাংশ জমি নদী হয়ে গেছে। থাকার কোনো জায়গা নাই। তাই এই পাউবোর সিলডাপে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। ঈদ করতে পারিনি। কাজ কাম নাই খুবই কষ্টে আছি।

সানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরিবারগুলোর মাঝে নগদ টাকা, ঢেউ টিন, চাল, ডাল, শুকনা খাবার প্রদান করা হলেও তা ছিল খুবই কম। তাই গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর মাঝে ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন সাহায্যর আহ্বান জানান তিনি।