দ্যা কুইন অফ ক্রাইম: আগাথা ক্রিস্টি!


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৬ জানা-অজানা

আগাথা ক্রিস্টি

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কণ্ঠস্বর। কিছু কিছু মানুষের জন্ম না হলে হয়ত অনেক ক্ষেত্রেই অপুর্নতা থেকে যেত। ঠিক তেমনি একজন নারীর জন্ম না হলে  সাহিত্য বোধয় পুর্নতা লাভ করত না। বলা হচ্ছে জনপ্রিয় রহস্য,গোয়েন্দা,রোমান্টিক,ক্রাইম লেখিকা “দ্যা কুইন অফ ক্রাইম” আগাথা ক্রিস্টি এর কথা।

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এর তথ্যানুসারে অগাথা ক্রিস্টি বিশ্বের সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের লেখক এবং যেকোন ধরণের সাহিত্যকর্মের সর্বাধিক বিক্রীত লেখক, যে ক্ষেত্রে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারই কেবল তাঁর সমকক্ষ। তাঁর বিক্রয়কৃত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪০০,০০,০০,০০০। শুধু তাই নয়, ১০৩টি ভাষায় আবার অনুবাদিত হয়েছে তাঁর বই গুলো।

তাঁকে রহস্য উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী লেখকদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁকে অসাধারণ রহস্য ও গোয়েন্দা গল্পগুলোর জন্য তাঁকে “দ্যা কুইন অফ ক্রাইম” বলে ডাকা হয়। ১৮৯০ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তিনি ইংল্যান্ড এ জন্মগ্রহণ করেন।  ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর,তাই তিনি মায়ের কাছেই শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

১৯০১ সালে তাঁর যখন মাত্র ১১ বছর বয়স,তখন তাঁর বাবা হৃদ রোগে মারা যান। ফলে পরিবারকে  আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। টিন এ্যাজ বয়সে তিনি ক্লাসিকাল সংগিত নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। কিন্তু তিনি এতই নার্ভাস হয়ে যেতেন যে পার্ফম করতে পারতেন না। প্রথম বইটি তিনি তাঁর বোনের সাথে জিদ করেই লেখেন। প্রথম বইটি প্রকাশ হতে তাঁকে প্রায় ৫ বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৬ জনের বেশি প্রকাশক তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবু থেমে থাকেনি তাঁর লেখা। ধৈর্য  আর চেষ্টা করেগেছেন সাফল্যে পৌঁছানোর জন্য ।  আর এজন্যই আজ তিনি বিশ্বে এত জনপ্রিয়।

“ম্যারি ওয়েস্টকোট ” ছদ্দনাম ব্যবহার করে তিনি ৬ টি রোমান্টিক উপন্যাস লেখেন।  তবে ৬৬টি রহস্য উপন্যাস ও ১৪টি ছোটগল্পের জন্য তিনি খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন,যা তিনি নিজের নামেই লেখেন। যাদের মধ্যে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো (Hercule Poirot) ও মিস মার্পল-এর (Miss Marple) কাহিনীগুলো  অন্যতম। তাঁর লেখা গল্পগুলো নিয়ে হলিউড সহ বিভিন্ন ভাষায় অনেকগুলো ছবি নির্মাণ করা হয়। মার্ডার উইথ মিররস(Murder with Mirrors),মার্ডার অন দ্যা ওয়ারিয়েন্ট এক্সপ্রেস(Murder on the Orient Express),দ্যা মিরর ক্রাকড(The Mirror Crack’d),মার্ডার, শি সেইড(Murder, She Said) উল্লেখযোগ্য সিনেমা।

এমনকি বলিউডে এবং ভারতীয় বাংলা ছবিও নির্মাণ করা হয় তাঁর গল্প অবলম্বনে।

উপমাদেশের জনপ্রিয় পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ “The Mirror Crack’d from Side to Side” বই অবলম্বনে “শুভমহরৎ” ছবিটি নির্মাণ করেন। যেখানে পাওয়া গেছে আগাথা ক্রিস্টির জনপ্রিয় চরিত্র “মিস মার্পল” কে। এছাড়া আবারো তৈরি হচ্ছে “কার্ডস এ্যাড় দ্যা টেবিল” অবলম্বনে একটি মুভি,যেখানে পাওয়া যাবে ক্রিস্টির “এরকুল পোয়ারো” কে।

 আগাথা ক্রিস্টির লেখা রহস্যে গল্প,নাটকগুলোর মত তাঁর সাথে  ঘটা একটি রহস্যময় ঘটনাও রয়েছে। তিনি ১৯২৬ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। প্রায় চারটি দেশের আইন সংস্থা দ্বারা  তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষে প্রায় ১১ দিন পর তাঁকে পাওয়া যায় ইয়র্কশায়ারের এক হোটেলে।

ধারণা করা হয় সাময়িক অ্যামনেসিয়ার কারণে এমনটা ঘটেছিলো। আর এটা নিয়ে অনেক কল্পকাহিনী ছড়িয়ে পরে চারিদিকে। কেউ কেউ বলেন এ্যালিয়েন নিয়ে গিয়েছিল তাঁকে। আবার কেউ কেউ বলেন এটা পাবলিসিটি স্টান্ট। কারন সে সময়  ক্রিস্টির বইয়ের বিক্রি  কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে এ সম্পর্কে কিছুই বলেন নি আগাথা ক্রিস্টি। তাই এই রহস্য থেকে গেছে রহস্য হিসেবেই।

 তিনি শুধু লেখিকাই ছিলেন না, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি হাসপাতালে নার্স হিসেবে বিনামূল্য এ কাজ করেন। “দ্যা কুইন অফ ক্রাইম” আগাথা ক্রিস্টি ১৯৭৬ সালের ১২ জানুয়ারি ইংল্যান্ড এ নিজ বাসায় মৃত্যু বরন করেন। গত ১৫ ই সেপ্টেম্বর ছিল আগাথা ক্রিস্টির ১২৬তম জন্মদিন। তিনি আজও বেঁচে আছেন সবার কাছেই। বেঁচে থাকবেন তাঁর লেখা অসাধারণ রহস্য, গোয়েন্দা, রোমান্টিক গল্পগুলো ও সেগুলোর প্রতিটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে।