শরীয়তপুরে চিকিৎসার জন্য দুই লক্ষ টাকা পেয়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই বাল্যবিয়ে !


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি-

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী কান্তা আক্তারের বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেয়ের বাবার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে এ বাল্যবিবাহ দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ballobiyeস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের ইতালি প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদারের মেয়ে কান্তা আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর মহিষার গ্রামের সাত্তার হাওলাদারের ছেলে রিপন হাওলাদারের বিয়ের কথাবার্তা হয়। এরই ধারাবাহীকতায় রোববার বিয়ের দিন ধার্য্য করা হয়। কান্তা আক্তার স্থানীয় তেলিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ের নিবন্ধন অনুযায়ী কান্তার জন্ম তারিখ ১ মার্চ, ২০০০ খ্রি:। সে অনুযায়ী তার বয়স ১৬ বছর ৬ মাস ১৭ দিন। আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে বিয়ে দেয়ার সুযোগ না থাকায় কুদ্দুস হাওলাদার স্থানীয় চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন রাঢ়ীকে ম্যানেজ করে একটি ভূয়া জন্ম সনদ উত্তোলন করেন। সেখানে মেয়ের জন্ম তারিখ দেয়া হয় ৫ মার্চ ১৯৯৮ খ্রি:। এজন্য কুদ্দুস হাওলাদার চেয়ারম্যানের চিকিৎসার জন্য দুই লক্ষ টাকা দেন। কথা অনুযায়ী রোববার দুপুরে চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন তার সকল ইউপি সদস্যদের সাথে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেতে যান।

বাল্যবিবাহের কথা জানতে পেরে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। নড়িয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ সাথে সাথে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রশাসনের লোক না যাওয়া পর্যন্ত বিয়ে বন্ধ রাখার জন্য ফোনে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিকাল ৪ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মেয়ের ১৮ বছর বয়স হয়েছে এই মর্মে চেয়ারম্যান নিজে সুপারিশ করলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। এরপর বিকাল ৫টার দিকে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, চেয়ারম্যান অনেক অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য কুদ্দুস হাওলাদার দুই লক্ষ টাকা দিয়েছেন। তাই চেয়ারম্যান নিজে দায়িত্ব নিয়ে কুদ্দুস হাওলাদারের মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন।

তেলিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, কান্তা আমাদের স্কুলের ছাত্রী। জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন অনুযায়ী কান্তা আক্তারের জন্ম তারিখ ১ মার্চ, ২০০০ খ্রি:। তার বয়স ১৮ বছর হয়নি। কিন্তু চেয়ারম্যান মেম্বাররা উপস্থিত থেকে বিয়ে দিলে আমাদের কী করার আছে?

চামটা ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পলাশ আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া জন্ম সনদ অনুযায়ী  কান্তার বয়স ১৮ বছর হয়েছে। চেয়ারম্যান নিজে বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। আমরা সব ইউপি সদস্যরাও উপস্থিত ছিলাম।

এ বিষয়ে চামটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন রাঢ়ী বলেন, ‘এলাকার বিয়ে তাই উপস্থিত ছিলাম। কিছুদিন আগে মেয়ের বাবা আবেদন করলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম সনদ দেয়া হয়। মেয়ে স্কুলে পড়ে কিনা আমার জানা নেই।’  টাকা নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার চিকিৎসার জন্য অনেকেই টাকা দিয়েছে। এটা ভিন্ন বিষয়।

নড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাজিয়া খানম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান জন্ম সনদ সঠিক বলে প্রত্যয়ন করায় আমি চলে এসেছি। এখন যদি জন্ম সনদ মিথ্যা হয়, তার জন্য চেয়ারম্যান দায়ী থাকবেন।