গত দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত কাশ্মীর। উপত্যকায় অশান্তি ছড়ানোর নেপথ্যে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে অনেক দিন ধরেই দাবি করছে ভারত সরকার। তা নিয়ে দু’দেশের বাগ্‌যুদ্ধও বার বার চরমে পৌঁছেছে। কিন্তু রবিবার ভোরে উরি সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হানার পর সন্ত্রাস এবং তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আর বাগ্‌যুদ্ধে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। বড়সড় পদক্ষেপের কথা ভাবতে শুরু করেছে ভারত সরকার। সেই লক্ষ্যে সোমবার সকাল থেকেই নর্থ ব্লক, সাউথ ব্লক সরগরম। এ দিন সকাল ১০টায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, আইবি-র নির্দেশক, র-এর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, বিএসএফ-এর ডিজি, সিআরপিএফ-এর ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আরও বেশ কয়েক জন শীর্ষ কর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র সচিবকে শ্রীনগর যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে নিরাপত্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন স্বরাষ্ট্র সচিব।

রাজনাথের পৌরোহিত্যে বৈঠকের পর শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক। রবিবারই উপত্যকার পরিস্থিতি দেখে আসা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকর এবং সেনাপ্রধান দলবীর সিংহ সুহাগ সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং অর্থ মন্ত্রী অরুণ জেটলিও। পর্রীকর ও সুহাগ প্রধানমন্ত্রীকে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তার পর পরিস্থিতির মোকাবিলার কৌশল নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। সাউথ ব্লক সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রায় সব সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়ার নীতিতেই সিলমোহর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপুঞ্জ সহ সবক’টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোর দিয়ে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হোক, এমনই নির্দেশ নরেন্দ্র মোদীর।

প্রধানমন্ত্রী এ দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই নীতিতে সিলমোহর দিলেও, তার আগে থেকেই কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক সেই লক্ষ্যে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার মার্গারিটা আইল্যান্ডসে নির্জোট আন্দোলন বা ন্যাম-এর সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে। ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর জানিয়েছেন, ন্যাম-এর মঞ্চে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবেই তুলে ধরছে ভারত। আকবর বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের যে জঘন্য ব্যবহার করছে, আমরা লিখিত ভাবে কঠোরতম ভাষায় তার প্রতিবাদ করছি।’’ শুধু ন্যাম নয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভাতেও বিষয়টি তুলতে চলেছে ভারত। পাকিস্তান কাশ্মীরে অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে সেখানে গণভোটের দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে সরব হবে বলে স্থির করেছিল। কিন্তু তার মধ্যেই উরিতে জঘন্য হামলা পাকিস্তানের অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে ভারত ইতিমধ্যেই দাবি করেছে। সেই দাবির সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ তুলে ধরে রাষ্ট্রপুঞ্জেও পাকিস্তানকে আরও এক বার সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করে দেওয়া হবে, বলছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করে ভারত তাদের একঘরে করার ডাক দিতে চলেছে বলেও জানা গিয়েছে।