কুড়িগ্রামে উত্যক্ত বন্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ায় বখাটের হাতেই প্রাণ গেল দম্পতির


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ আলোচিত, স্পট লাইট

সাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি-

দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্তের পর অবশেষে খুন করা হলো শিল্পি খাতুনকে। সাথে স্বামী গোলাম হোসেনকেও প্রাণ দিতে হলো। গোলাম হোসেনকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় পাশের ঘরে। আর শিল্পি খাতুনের লাশ মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।

3255স্থানীয়রা বলছেন, গোলাম হোসেনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখে শিল্পিকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এমন বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাইটকামারী গ্রামে সোমবার সকালে।

দিনে দুপুরে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকান্ডে এলাকার মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই দম্পতির সুপ্তি (১০) ও শোভা (৪) নামের দুই কন্যাসন্তান।

নিহত গোলাম হোসেনের বড় ভাই সায়েজ উদ্দিন জানান, গত ২২ জুন এলাকার ৪ বখাটের নামে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন শিল্পি খাতুন। এতে তিনি বলেছিলেন, ওই এলাকার শরীয়ত উল্যাহর ছেলে আব্দুল আউয়াল (২৯), শামছুল হক (২৭), কালু শেখের ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬) ও আবুল হোসেনের ছেলে মাজম আলী (২৮) তাকে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় কাপড় ধরে টানাটানি, রাত-বিরেতে ঘরের দরজা ঠেলে ঘরে ঢোকার চেষ্টাসহ নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছে। কিন্তু পুলিশ তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে তিনি ২৮ জুন কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার তবারক উল্যার স্মরণাপন্ন হন। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি সালিশের ব্যবস্থা করা হয়। সালিশে ওই ৪ বখাটের মুচলেকা নেয়া হয়। সালিশের সভাপতি ছিলেন ওই এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের। এ ঘটনার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বখাটেরা। তখন থেকে শিল্পিকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল ওরা।

অভিযোগের কথা স্বীকার করে রৌমারী থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে ওই মহিলাকে থানায় ডেকেছিলাম কিন্তু তিনি আসেননি। পরে জানতে পারলাম তিনি পুলিশ সুপারের নিকট গিয়েছেন। এরপর আমরা এলাকায় সালিশের ব্যবস্থা করে মুচলেকা নিয়েছি। কিন্তু কেন ওই ৪ যুবকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন :