• আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, সকাল ৯:৪৩

আবারও ইউনেসকোর সরকারকে চিঠি রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   ইউনেসকো  সরকারের কাছে তৃতীয়বারের মতো তাদের মতামত জানিয়ে বলেছে রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে   বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছে  তারা  ।

rampal

গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে ইউনেসকোর প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই মতামতে রামপাল প্রকল্পের জন্য করা পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, ইআইএ সঠিকভাবে হয়নি এবং তা অসম্পূর্ণ। রামপাল প্রকল্পের কয়লা পরিবহনের জন্য পশুর নদ খননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তারও সঠিক ইআইএ করার জন্য সরকারকে বলেছে ইউনেসকো।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো এ প্রতিবেদনে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার বলেছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষতিসহ এই বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়ে আগামী ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪০তম অধিবেশনে আলোচনা হবে। সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্থান হিসেবে ঘোষণা দেওয়ারও আভাস মিলেছে ওই প্রতিবেদনে।

গত বছরের জুলাইয়ে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৩৯তম অধিবেশনে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কা করে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে মতামতও চাওয়া হয়। ইউনেসকোর আগে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা রামসার সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ২২ মার্চ ইউনেসকোর একটি প্রতিনিধিদল এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসে। সফরে আসা বিশেষজ্ঞ দলটি বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে। প্রতিনিধিদলের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশ ও সুন্দরবনের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটি নিরূপণ করা। বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি আর হয়নি। তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠিয়েছে ইউনেসকো।

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে রামপাল প্রকল্প ও সুন্দরবন নিয়ে তাদের রি-অ্যাকটিভ মনিটরিং দলের মতামতের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তারা সুন্দরবনের অসাধারণ বৈশ্বিক মূল্যকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের পাশে যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে, তার কারণে সুন্দরবনের সম্পদের ক্ষতি বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে চায়।