• আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দাম কমে যাওয়ায় মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা হতাশ


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পাট চাষ সবচেয়ে বেশি। দেশের চাহিদা পূরণে এ উপজেলার পাটের জুড়ি নেই। এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষাবাদ হয়েছে ১৯১০ হেক্টর। গতবছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮০০ হেক্টর। মণ প্রতি ২২০০ টাকা থেকে দাম কমে ১৬০০ টাকা হওয়ায় কৃষকরা হতাশ। কিন্তু কৃষি অফিসার বললেন ভিন্ন কথা। উৎপাদন ও ফলন বেশি তাই এ উপজেলার কৃষকরা লাভেই আছেন।

pat-chas

জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে এ উপজেলায় আবাদ বেশি এবং উত্তোলন হয় আগে। বর্তমানে এ উপজেলায় পাট উত্তোলন ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। উপজেলার টেংগুরিয়াপাড়া, ইছাপুরা, নাইসিং, মধ্যপাড়া, নিমতলা, কমলাপুর, রাজদিয়া, রায়েরবাগ, শিয়ালদি, ইমামগঞ্জ, গয়াতলা, আবিড়পাড়া, চোরমর্দ্দন, জৈনসার এলাকার কৃষকরা পাটের পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পুরুষরা পাট উঠিয়ে দিচ্ছেন, মহিলারা পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার পুরুষরা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজার জাত করছেন। গত কয়েকদিন আগে দাম ভালই ছিল এখন কমে যাওয়ায় কৃষকরা দিশে হারা হয়ে উঠেছেন।

এ ব্যাপারে কৃষকরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অনেক কৃষক জানান, সরকার প্লাস্টিকের বস্তা উঠিয়ে দেওয়ায় ভেবে ছিলাম দাম ভাল পাব কিন্তু এখন উল্টো দাম কমে গেছে। শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বেশি ঐ তুলনায় বাজারে দাম পাই না। এত কষ্ট করে পাট উৎপাদন করা হয়। এ কাজে আগের মত শ্রমিক পাওয়া যায় না। তার মধ্যে দাম কমেছে তাহলে আমরা কিভাবে পাট চাষাবাদ করব। সরকার যদি আমাদের দিকে খেয়াল রাখে তাহলে উৎপাদন আগামীতে আরো বারাব। এবার প্রতিমণ পাট ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা ছিল। বর্তমান বাজার কমে গিয়ে ১৫শ’ থেকে ১৬শ টাকা দাম হয়েছে। খরচ দিয়ে এখন আমাদের চালান পাওয়াই মুশকিল। গত বছরের চেয়ে এবার আমরা পাট বেশি বুনছি। পাট হইছে ভালই, দাম পাইনা।

আবার কোন কোন কৃষক জানান, বাজারে নিয়া মণ প্রতি ১৫শ’ ৫০ টাকা বিক্রি করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার সুবোধ চন্দ্র রায় সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পাটের চাষাবাদ সবচেয়ে বেশি। উৎপাদনে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের নির্দেশনা আছে যে, কৃষিজাত দ্রব্যাদি পাটের ব্যাগে ব্যাবহার করার জন্য। তাই কৃষকরা এবার পাট চাষে বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। পাট উৎপাদনের সময় ২ হাজার ২২শ টাকা দাম ছিল কিন্তু এখন ১৫শ থেকে ১৭শ টাকায় নেমে এসেছে। তারপরও কৃষকরা লাভেই আছেন। আমাদের বীজের স্বল্পতা না থাকলে আরো বেশি উৎপাদন হতো। গতবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮০০ হেক্টর, এবার ১৮৫০ হেক্টর, আমাদের অর্জণ হয়েছে ১৯১০ হেক্টর। সার্বিক ভাবে আমি বলব উৎপাদন বাম্পার হয়েছে।