🕓 সংবাদ শিরোনাম

সৌদিআরবকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে আশাবাদী’দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছেএকটা কার্ড করে দেনা বাজান, খেয়ে বাঁচি ! ফুলবাডীতে সামদ্রিক শৈবাল চাষের প্রোজেক্ট পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারপটুয়াখালীতে চাল আত্মসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারসরকার আইন-আদালতকে নিজের সুবিধায় ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে -মির্জা ফখরুলআগুন নিয়ে খেলবেন না: নেতানিয়াহুকে হামাসপ্রধানইসরাইলের চেলসিকে হারিয়ে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন ‘বাংলাদেশের’হামজাপ্রবল বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিকটিকি’রোহিঙ্গা শিবিরে ডাকাতের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা নিহতশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল

  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

ভারত সৃষ্ট বন্যায় দেশের ৪০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –    এবার দেশে তেমন বৃষ্টি হয়নি তবুও বন্যা , ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট  বন্যায় দেশের ৪০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর ফসলের ক্ষতি হয়েছে পৌনে দুই লাখ একর জমির। দেশের ২০ জেলার ৯৫ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৯ লাখ ১২ হাজারের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যাও ৯ লাধিক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বন্যা-পরবর্তী সর্বশেষ ক্ষয়-ক্ষতির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

bonnay-khoti

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনডিআরসিসি) হিসাবে বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী ও বগুড়া, উত্তর-পূর্বের জেলা জামালপুর, সুনামগঞ্জ ও সিলেট, মধ্য অঞ্চলে টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর। এসব জেলার আমন, রোপা আমনের বীজতলা, আউশ ধান, শাক-সবজির তে পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ১৬ জেলায় আমন বীজতলা, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলসহ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায় এবং এক লাখ ৫৮ হাজার একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনডিআরসিসি বন্যাদুর্গত ২০ জেলা থেকে ক্ষয়তির এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। জেলা প্রশাসক, জেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার (ডিআরো) মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসির সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ২০টি জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ ও রাজশাহী। এসব জেলার ৯৫ উপজেলা, ৫২৯ ইউনিয়ন, ১৩টি পৌরসভায় মোট তিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ৩৫৮টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি পরিবার। এসব পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা সম্পূর্ণ ৯ হাজার ৯৭৫ জন। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ লাখ ১৯ হাজার ১১৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা সম্পূর্ণ ৭ হাজার ৯৯২টি, আংশিক ৯ লাখ দুই হাজার ৮৭৮টি। তিগ্রস্ত ফসলাদি এক লাখ ৭৫ হাজার ৩৭ একর। তিগ্রস্ত শিা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ৯৬টি, আংশিক দুই হাজার ২১৭টি। তিগ্রস্ত রাস্তা পাকা সম্পূর্ণ ৩০ কিলোমিটার, আংশিক ৩০৫ কিলোমিটার এবং কাঁচা সম্পূর্ণ ৫০৪ কিলোমিটার ও আংশিক দু’হাজার ৬১৫ কিলোমিটার। তিগ্রস্ত ব্রিজ/কালভার্ট ৪৮টি এবং তিগ্রস্ত বাঁধ ১২০ কিলোমিটার। আর ১৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ১৪৫জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। এ ছাড়া এবারের বন্যায় সরকারি হিসাবে মৃত লোকের সংখ্যা ৭৬ জন। মৃত গবাদিপশু ১৭টি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, কমপে সাড়ে পাঁচ লাখ কৃষক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানি কমার পর এখন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ধানগাছের সাথে লেগে থাকা কাদা সরে যাচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় বন্যার পানির সাথে আসা পলি পড়ায় ধানের জন্য তা আশীর্বাদও হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার পরামর্শক কৃষিবিদ ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকদের নাজিরশাইল, বিনাশাইল, লতিশাইল, বিআর ২২ এবং অন্যান্য স্থানীয় জাতের চারা দ্রুত রোপণ করতে হবে। বন্যার পানি কমলে শীতকালীন সবজি, তেল ও ডাল জাতীয় ফসলের চাষবাসের প্রস্তুতিও নিতে হবে কৃষককে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল হাশিম জানান, জেলায় আড়াই থেকে তিন শ’ কোটি টাকার ফসলের তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারের বন্যায় জামালপুর জেলা সদরসহ বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ীতে বানের পানিতে ভেসে গেছে ৬ হাজার ৪৫২টি পুকুর ও ঘেরের প্রায় এক হাজার ৬৯০ টন মাছ। মৎস্য অধিদফতরের হিসাবে, এ খাতে তির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা। লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় তির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। গাইবান্ধা জেলার তির পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কুড়িগ্রামে বন্যায় প্রায় ৬৩ কোটি টাকা মূল্যের রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে।

 

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন :