পাক বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল জম্বু শহর, পুলওয়ামায় কার্ফু জারি

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

%e0%a6%ac%e0%a6%bfআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- পাকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়েগেছে জম্বু শহর। পাকিস্তান বিরোধী এ বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হন জম্বু শহরের সর্বস্তরের মানুষ। উরির সেনা শিবিরে জঙ্গিহানার নিন্দা করে  সোমবার জম্মুর প্রেস ক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল প্যান্থার্স পার্টি (জেকেএনপিপি)।

 সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য পাক বিরোধী স্লোগানে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ মিছিলে শামিল ছিলেন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা, আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য সংগঠন। সমবেদনা জানানো হয় শহিদ জওয়ানদের পরিবারের প্রতি। পাশাপাশি, পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলনের সময় সোপিয়ানে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে সোমবার প্রাণ হারালেন খুশবু (১৯) নামে এক তরুণী। ফলে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কাশ্মীরে প্রাণ হারালেন দুই পুলিশসহ ৮২ জন।

বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকেই অশান্ত কাশ্মীর। অব্যাহত বিক্ষোভ আন্দোলন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জারি কার্ফু। তারপর রবিবার কাকভোরে সেনা ক্যাম্পে জঙ্গিহানার পর পরিস্থিতি নতুন করে ঘোরালো হয়েছে। এদিন সেই জঙ্গিহানার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান জম্মুর একদল সমাজকর্মী। সেখানে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ‘মদত’ দিচ্ছে বলে আওয়াজ ওঠে। পোড়ানো হয় পাকিস্তানের ম্যাপ ও পতাকা। দাবি ওঠে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার। জেকেএনপিপি’র চেয়ারম্যান হর্ষ দেব বলেন, পাকিস্তান ও তাদের জঙ্গিরা আমাদের সেনাবাহিনীর উপর আঘাত হানছে। কাশ্মীরকে অশান্ত করে তুলেছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসের জন্য ওরাই দায়ী। পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির জন্য এই প্রতিবেশি দেশকেই দায়ী করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

অন্যদিকে, এদিন পুলওয়ামা জেলায় ফের কার্ফু জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, অনন্তনাগের কাছে একটি স্কুলে রহস্যজনকভাবে আগুন লেগে যায়। সেইসঙ্গে, রাজধানী শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকাসহ কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে এখনও জারি রয়েছে কার্ফু। রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বান্দিপোড়া, কুপওয়াড়ার বাসিন্দাদের বারামুলা; সোপিয়ান, কুলগাম ও অনন্তনাগের বাসিন্দাদের পুলওয়ামা এবং গান্দেরওয়াল, বদগাঁওয়ের বাসিন্দাদের শ্রীনগরের দিকে পদযাত্রার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২২ তারিখ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ-আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন পুলওয়ামায় কার্ফু জারি করা হয়। বারামুলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের চালাফেরার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে টানা ৭৩ দিন ধরে ব্যাহত রয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

এদিন সোপিয়ানের ভেহিলে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোঁড়ার সময় জখম হন মহম্মদ হুসেনের মেয়ে খুশবু। পরক্ষণেই ঘটনাস্থলে পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, সোপিয়ান ও শ্রীনগরের অন্যান্য পাঁচটি থানায় এখনও বজায় রয়েছে বিধিনিষেধ। বারামুলায় কার্ফু জারি করা হয়েছে বলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানালেও এসএসপি ইমতিয়াজ হুসেন সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। বাকি উপত্যকায় মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল রয়েছে।