🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১২ মে, ২০২১ ৷

নাগেশ্বরী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সরকারী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে সংশ্লিস্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির ৯০ জন সদস্য।

durniti

উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফান আলী নাগেশ্বরীতে যোগদানের পর থেকে নানা অজুহাতে উৎকোচ দাবী করে মিলার ও কৃষকদের হয়রানি করে চলছেন। তার দাবী পুরন করতে না পারলে তিনি তাদের সাথে অসদাচরন করে থাকেন। অভিযোগে জানা যায়, বোরো চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৯০ জন চাউল কল মালিক গত ৪ আগস্ট ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডারসহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নিকট বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন।

এর প্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বোরো ধান ছাটাইয়ের জন্য ১৬১৪ মেঃ টন বরাদ্দ দেন। পরদিন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফান আলী চাউল কল মালিকদের জানান বরাদ্দ ঠিক রাখতে হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে টন প্রতি ৩ হাজার ও তাকে প্রতি বস্তায় ৫০ টাকা দিতে হবে। আর এ টাকা তার হাতেই দিতে হবে। কারন তার মাধ্যম ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টাকা গ্রহন করবেন না। অন্যথায় উক্ত বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এ সময় চাউল কল মালিক শফিক, ইউসুফ আলী মোল্লা, লাভলু মন্ডল, হাশেম আলী, আক্কাছ আলী এর প্রতিবাদ জানালে তিনি তাদের সাথে অসদাচরন করেন।

এর আগে বোরো ধান সংগ্রহেও তিনি কৃষকের নিকট বস্তা প্রতি ৭০ টাকা ও লেবারদের নামে ৩০ টাকা করে নেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ধান সংগ্রহের নিয়মনীতি না মেনে তার নিজের টাকা পছন্দের লোকের মাধ্যমে ধান কিনে আদ্রতা যুক্ত নিম্নমানের চিটা, ধুলি-ময়লা মিশ্রিত ধান গভীর রাতে গুদামজাত করার অভিযোগ রয়েছে। মালিক সমিতির অপর এক অভিযোগে জানা যায়, গত ৬ মে উক্ত খাদ্য কর্মকর্তা জরুরী কাজের কথা বলে ব্যবসায়ী আজিজুল হকের বাজাজ ডিসকভার-১২৫ সিসি মোটর সাইকেল নেন। দীর্ঘদিনেও গাড়ী ফেরৎ না পেয়ে ওই ব্যবসায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ নাগেশ্বরী থানায় অভিযোগ করেন। এছাড়া গুদাম কর্মকর্তা উপজেলার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আতাত করে বাইরে থেকে দু‘জন চাউল ব্যবসায়ীর নিকট থেকে নিম্নমানের চাউল ভিজিএফ এর জন্য দিয়ে গুদামের ভাল চাউল ওই ব্যবসায়ীকে দিকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল ওহাব ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আফান আলীর সীমাহীন দুর্নীতি ও অসদাচরনে অতিষ্ট হয়ে তার প্রত্যাহার চেয়ে আমরা সংশ্লিস্ট উর্ধতন কতৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি। উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাউল কল মালিকরা তাদের স্বার্থ উদ্ধারে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এনামুল হক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বলার কিছু নেই। যা হচ্ছে তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিএলএসডি ভাল বলতে পারবেন। কারন গুদাম কর্মকর্তা আমাকে কিছু জানান না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমার উৎকোচ চাওয়ার বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি শুনেই এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।