সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সোনামসজিদ বন্দরে পণ্য ছাড়ে জটিলতা: নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার কাঁচা পণ্য

৫:২৭ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

মোঃ কামাল হোসেন, শিবগঞ্জ প্রতিনিধি: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তারা সাফটা চুক্তি না মানায় প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্য ছাড়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। কাস্টমস বিভাগের একজন উদ্ধর্তন কর্মকর্তা প্রতিদিন বিকেলে পণ্য ছাড় করার পূর্বে নিত্য নতুন অলিখিত নিয়ম নির্দেশনা দেয়ার কারণে পণ্য ছাড় করণে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে সিএন্ডএফ এজেন্টদের বাক বিতন্ডতা লেগে আছে।

sthol-bondor

উক্ত কর্মকর্তা প্রতিদিনই শত ভাগ রাজস্ব পরিশোধ করার পরেও আবারও ওই সব পণ্য ভর্তি গাড়ি ওজন করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। ফলে প্রতিদিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে কাঁচা পণ্যবাহী গাড়িগুলো দুপুর ১২টার মধ্যে পানামা ইয়ার্ডের ভিতর প্রবেশ করলেও নানা জটিলতার কারণে রাত ৯টা পর্যন্ত ওইসব কাঁচা পণ্যবাহী ট্রাক দেশের অভ্যন্তরে যেতে পারে না বলে অভিযোগ করেছেন সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ। তিনি জানান, গত ১৭ তারিখ সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯ গাড়ি কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়। কিন্তু সময়মত পণ্য ছাড় না করায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ গাড়ি মরিচ পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। একই দিনই ৪৭ ট্রাক টমেটো আমদানি করা হয়। তার মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা টাকার ২২ ট্রাক টমেটো পঁচে নষ্ট হয়ে যায়।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (শুল্ক) কর্তৃক এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যার নম্বর এস আর ও নং- ৭৮-আইন/২০১৫/০৬/শুল্ক। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- শুল্কও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সার্কভুক্ত দেশ সমূহের মধ্যে (সাফটা চুক্তি) হয়। এই চুক্তিতে ২০০৬ সাল থেকে কার্যকর করা হয়েছে। উক্ত চুক্তির আটিকেল ৩ (১) এর উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে উহার আটিক্যাল ৭ এ বর্ণিত বিধান অনুযায়ী চুক্তি ভুক্ত দেশ সমূহে আমদানী শুল্ক হার হ্রাস করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সোনামসজিদ কাস্টমস উক্ত সাফটা চুক্তি মানতে রাজি না হওয়ায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্য ছাড়ে প্রতিদিন জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং হয়রানী করা হচ্ছে সিএন্ডএফ এজেন্টেরা।

এই ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও বর্তমান সভাপতি হারুন অর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন – কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার রাজশাহী প্রতিদিনের সোনামসজিদের পণ্য ছাড় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করছেন। তারা বলেন, ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্য গুলি পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ইয়ার্ডের ভিতরে ওজন করে রাজস্ব পরিশোধের পরেও আবারও ওজন মাপার জন্য ওয়েব্রীজে ওজন করা হয়ে থাকে। ফলে যথা সময়ে ওইসব পণ্য ভর্তি ট্রাকগুলো সোনামসজিদ থেকে দেশের অভ্যন্তরে যেতে পারছেনা। অনেক সময় কাঁচা ফল নষ্ট হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ- সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালনে ২ জন সহকারী কমিশনার, ২ জন সুপারসহ কাস্টমস ইন্সপেক্টর রয়েছেন। তার পরেও প্রতিদিন রাজশাহী থেকে একজন করে সহকারী কমিশনার পাঠিয়ে থাকেন কাস্টমস কমিশনার। এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সহকারী কমিশনার মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এছাড়া রাজশাহী কাস্টমস কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য গতিশীল করার লক্ষ্যে অবিলম্বে সাফটা চুক্তি মেনে পণ্য ছাড়ে জটিলতা দূর করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন।