টাম্পাকোর ধ্বংসস্তুপ থেকে এখনো চলছে উদ্ধার কাজ


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ জাতীয়

%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%beসময়ের কন্ঠস্বর ডেস্কঃ-গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় টাম্পাকোর ভায়াবহ অগ্নি কান্ড যেন কোখনো ভুলার নয়। গরীব মেহনতি মানুষের ঘাম চুষে খেতেই বুঝি জ্বলে উঠেছিল আপন মনে ওই সর্বনাশা আগুন। কতটা রাগ নিয়ে জ্বলেছিল এ আগুন তা এক মাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। টাম্পাকো শুধুই এখন একটা ধ্বংসস্তুপ। টাম্পাকোর এ ধ্বংসস্তুপ থেকে এখনো চলছে উদ্ধার  যার পাশে পাথর হয়ে অপেক্ষা করছে জনম দুঃখী মা। মা যেন তবু শুধু ফিরে পেতে চায় তার সন্তারের কয়লা হওয়া লাশ।  যে সন্তানের গাাঁয়ে একটা ধুলিকণাও লাগতে দেয়নি মা, সে সন্তান পুরে ছাই হয়ে গেছে এ নিদারুন দৃশ্য কি সহ্য করার মত? চলছেই আজও স্বজনদের আহাজারি টাম্পাকোর পুরে যাওয়া বুকে।

 আজ ছিল উদ্ধার কাজের ৯ম দিন। ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এপর্যন্ত ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া ১১ জন নিখোঁজ এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন।

তবে আজ কোন লাশ উদ্ধার হয়নি। সেনাসদস্য ও পুলিশ কারখানার চারপাশ ঘিরে রেখে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এপর্যন্ত ৫ হাজার টন বর্জ্য সরানো হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। তবে থামেনি নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারি। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত ধ্বসংস্তুপ ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে নিখোঁজের খোঁজে আহাজারি করতে দেখা গেছে তাদের।

কারখানার পাশে নিহত মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের কি বুঝ দেব। ওরা শুধু ওর বাবা’র কথা বলে। আমি এখন কই পাব ওর বাবাকে। ওদের বাবাতো চিরদিনের জন্য চলে গেছে। সন্তানদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। একটু পর পর ছোট মেয়েটা আর ছেলেটা বলে, মা, বাবা এখনো কেন আসে না। আমরা বাবার কাছে যাব। আমি কই গেল পাব ওদের বাবাকে। আমি কিভাবে ওদের বুঝ দেব। ও আল্লাহ কি কঠিন পরীক্ষায় আমাকে ফেললে । নিমিশেই আমাদের সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেল।’

এদিকে স্থানীয় এমপি মো.জাহিদ আহসান রাসেল নিখাঁজ ১০ পরিবাররকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ২০ জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহত ২৫ জনের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। যারা অনুদান পাননি তারা জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেয়া কন্ট্রোলরুমে এসে নাম নিবন্ধন কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

আহত এক শ্রমিক আ.মোমিন মিশু বলেন, ঘটনা ঘটার পূর্বে আমরা কারখানার মূল ফটকদিয়ে কারখানায় ঢোকার সময় গ্যাস লিকেজ হয়ে শো শো শব্দ বের হতে শুনেছি। এর কিছুক্ষণ পরেই বয়লারে সংযোগ গ্যাস লাইন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ গ্যাস লাইনে অবৈধ বুস্টার মেশিন বসিয়ে বাড়তি গ্যাস টেনে চাহিদা মেটাতো। আর সেই বুস্টার মেশিন বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আসল রহস্য উম্মোচন হবে।  আজ আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা মো.শাহাদাত হোসেন বলেন ধ্বংসস্তুপ ভবনের উদ্ধার কাজ এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভবনের ভেতর থেকে ১৪২টি কেমিকেল ড্রাম উদ্ধার করা হয়েছে। এব্যাপারে ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এএসএম মাহমুদ হাসান বলেন, দ্রুত উদ্ধার কাজ চলছে, যেখানে লাশ থাকার কথা আমরা সেই খানেই গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে কবে নাগাদ এই উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেন নি।