• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

হায় অবোধ প্রেম ! স্বীকৃতি না পেয়ে প্রেমিকের বাড়িতে বিষপানে কিশোরীর আত্মহত্যা


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি-

প্রেমিকের পরিবার বিয়ের দাবি মেনে না নেওয়ায় এবং প্রেমের স্বীকৃতি না পেয়ে প্রেমিকের বাড়িতেই বিষপানে আত্মহত্যা করেছে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ৯নং বহুরিয়া ইউনিয়নের মুন্দিরাপাড়া গ্রামে হৃদয় বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

tangail-picআজ (২০ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার সকালে তানিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর আগে ওই বাড়িতে তিন দিন অনশন করে ওই ছাত্রী। কিন্তু প্রেমিকা বাড়িতে অবস্থান করছে এই ঘটনা টের পেয়ে প্রতারক প্রেমিক বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনার পর থেকেই রায়হান ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক।

জানা গেছে, মুন্দিরাপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আবু রায়হান (২২)। সে মির্জাপুর বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেটে গার্মেন্টসে কাজ করে। মোবাইলে একই উপজেলার বাঁশতৈল নয়াপাড়া পাঁচগাঁও গ্রামের কাতার প্রবাসী মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে বাঁশতৈল নয়াপাড়া হাজি ময়েজ উদ্দিন দাখিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়ার (১৫) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।

দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে রায়হান তানিয়াকে বিয়ে করবে এই আশ্বাসে তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর রায়হানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে টালবাহানা শুরু করে।

গত শুক্রবার রায়হানের বাড়ি পালিয়ে আসে তানিয়া। তানিয়া বাড়িতে অবস্থান করছে এই ঘটনা টের পেয়ে প্রতারক রায়হান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত তিনদিন ধরে তানিয়া ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। এ ঘটনাটি দেখার জন্য শত শত লোক ওই বাড়িতে ভিড় করে।

মৃত্যুর আগে রায়হান তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বলেও জানিয়েছে তানিয়া।

এ বিষয়ে রায়হানের বাবা আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। ছেলে পলাতক।

সোমবার রাতে তানিয়া বিষপান করলে স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পর তানিয়া মারা যায়।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় আহত তানিয়াকে কুমুদিনী হাসপাতালে দেখার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আহসান হাসিব খান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম ও কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফুর রহমান দেখতে যান। তারা তানিয়াকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

পুনশ্চ, আমরা যারা নিউজরুমে কাজ করি তারা কিছু কিছু সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে মর্মাহত হই, খুব কষ্ট পাই। তেমনই একটি সংবাদ হচ্ছে নিচের ছবির মেয়েটিকে নিয়ে। মেয়েটি টাঙ্গাইলের। বাবা কাতার প্রবাসী। মাত্র ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণীতে পড়ত। বাংলাদেশের অনেক ‘আবেগী’ মেয়েটির মত এই মেয়েটিও মিথ্যা প্রেমের জালে পড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল। মেয়েটি তিনদিন প্রেমিকের বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান করার পর স্বীকৃতি না পেয়ে আজ আত্মহত্যা করেছে। সে কখনও ভাবেনি তার বাবা বিদেশে থেকে কলুর বলদের মত খেটে টাকা পাঠাচ্ছে তারই সুখের জন্য। যে পিতা-মাতা তাকে জন্ম দিয়েছে তাদের প্রতি নিজের দায়িত্বের কথা বেমালুম ভুলে একটি কুলাঙ্গারকেই মন আর শরীরে আষ্টেপৃষ্টে ধরেছিল মেয়েটি।

 
কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে আর কত মোবাইল পর্ণ তৈরী হলে মেয়েরা বুঝবে ‘প্রেম’ নামক বিলুপ্ত বস্তুটি ছেলেদের প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়? সামান্য ক’দিনের পরিচয়ে একজন ছেলেকে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন ভেবে বিছানায় গিয়ে তার কিছুদিন পর ছেলের বাসায় বিয়ের দাবী পূরণ না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে আর কত মেয়ে মরলে এ যুগের তথাকথিত আধুনিক মেয়েদের উপলব্ধি হবে প্রেম বলতে কিছু নেই?
 
প্রিয় আপু, এ রকম প্রশ্ন কি আপনার মনেও খেলা করে? একবার ভাবুন তো, বাবা-মা কি আপনার সত্যিই খারাপ চায়। ভালবাসা দোষের কিছু না, বাবা-মার পছন্দ করা ছেলের সাথে বিয়ে হলে তাকে প্রাণ উজাড় করে ভালবাসা যায় না? নাকি তারা ভিনগ্রহের এলিয়েন?
 
আমাদের আশা সমাজ বদলাবে, মেয়েরা বদলাবে, সচেতন হবে। নিজের ও পরিবারের সুখী জীবন নিশ্চিত করবে। আর এমন আশাটা একটুও অমূলক নয়।
————————
একটি সময়ের কণ্ঠস্বর «» এডমিনস্