প্রধানমন্ত্রীর সফর ঠেকাতে আজ স্মরণকালের সেরা বিক্ষোভের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র

৮:৪৮ পূর্বাহ্ন | বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬ Breaking News, আন্তর্জাতিক, জাতীয়

অবশেষে কমিটি গঠনসহ নানাবিধ কারনে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঠেকাতে স্মরণকালের সেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে বলে  ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র

নিউজ ডেস্ক,সময়ের কণ্ঠস্বর–   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুত্রমতে, কেন্দ্রীয়  নেতাদের প্রতি নানান অভিযোগ ও ক্ষোভের কারণে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ছিলো না কোনরকমের দলীয় কর্মসূচী। অবশেষে দলের স্বার্থে ও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে সকল রাগ-অভিমান ভুলে এক কাতারে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। অল্প সময়ের মধ্যে হাসিনাবিরোধী সমাবেশ করতে একমত হয়েছে সবাই। আর সে লক্ষ্যেই সোমবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত টক অফ দ্যা টাউন রেস্টুরেন্টে মিলিত হয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। সিদ্ধান্ত হয়, অবৈধ হাসিনার বিরুদ্ধে স্মরণকালের সেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

usa-bnp

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার সায়েম। পরিশেষে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা একমত হন যে, জাতিসংঘের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে অবৈধ হাসিনার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

 আজ ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেনারেল এসেম্বেলি হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন,

prim-biman-hasi

 আজ  বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর  বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে লন্ডন থেকে টেলিফোনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে বিক্ষোভ সমাবেশ সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন পাশাপাশি তার হোটেলের সামনেও প্রতিবাদ কর্মসূচী চালাবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।

উল্লেখ যে,  প্রতিবারি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিএনপির নেতা-কর্মিরা বিমানবন্দরে  বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করলেও এবারে ‘প্রতিরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পরেও বিএনপির নেতা-কর্মিরা কেউই বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত হননি। কমিটি গঠনসহ নানাবিধ কারনে দলীয় কোন্দল তীব্র হয়ে উঠায় দলের কেউই বিমানবন্দরে যাননি বলে জানা যায়।

বিএনপির ওই কর্মসূচির পাল্টায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও ‘যেখানে বিএনপি-জামাত-সেখানেই প্রতিরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল গত সপ্তাহে।

গত ২০ বছরের ইতিহাসে এবারই ব্যতিক্রম ঘটলো এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীকে কাল পতাকা প্রদর্শসনহ বিক্ষোভের বিএনপি-জামাতের চিত্র। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা তাঁর সফর সঙ্গীসহ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে (মন্ট্রিল সময়) এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটযোগে নিউইয়র্কের উদ্দেশ মন্ট্রিল ত্যাগ করবেন। এই ফ্লাইটটি নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমান বন্দরে বিকেল ৩টায় (নিউইয়র্ক সময়) পৌঁছান।কিন্তু এবারে ‘প্রতিরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পরেও  নানাবিধ কারনে দলীয় কোন্দল তীব্র হয়ে উঠায় দলের কেউই বিমানবন্দরে যাননি বলে জানা যায়।

এ জন্যে পুরো ক্রেডিট নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ আর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা। মহিলা আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মীও সোচ্চার ছিলেন বিএনপি-জামাত জোটের যে কোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে। তারাও পোস্টার-ব্যানারসহ এয়ারপোর্টে জড়ো হন।

এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন বিমানবন্দর এলাকায় তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ করার কোন অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কর্মীসভায় সবাইকে জিয়ার সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, “আমরা পদ পদবির রাজনীতি করি না। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অগণতান্ত্রিক কোন ব্যক্তির স্থান হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবৈধ হাসিনাকে প্রতিরোধের জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও প্রবাসী গণনতন্ত্রকামী জনতা আজ একতাবদ্ধ। আসুন আমরা অতীত ভুলে গিয়ে দল ও দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে অবৈধ হাসিনাকে প্রতিরোধ করি ।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডঃ মুজিবুর রহমান মুজমদার বলেন, “এখন সময় হাসিনাকে সমুচিত জবাব দেওয়ার। আমরা দল করি শহীদ জিয়ার আদর্শে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায়। আসুন দলকে ভালবেসে আমরা সবাই একতাবদ্ধ হই, হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। দেখিয়ে দেই, যুক্তরাষ্ট্রের মাটি শহীদ জিয়ার ঘাটি। “

জরুরী সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী দলের বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা জসীম উদ্দিন ভুঁইয়া, ইলিয়াস আহমেদ মাস্টার, হেলাল উদ্দিন, মাহমুদুর চৌধুরী, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, বাসেত রহমান, মার্শাল মুরাদ, আবু সাঈদ আহমদ, সাঈদুর রহমান, গিয়াস মজুমদার, শাহ্‌ আলম, আবু সুফিয়ান, এবাদ চৌধুরী, সাইদুর রহমান, আতিকুল হক আহাদ, এমলাক হুসেন ফয়সল, মিজানুর রহমান মিজান, সাইফুর খান হারুন, রেজাউল আহাদ ভুঁইয়া, রুহুল আমীন নাসির, নাসিম খান, নিরা রব্বানি, কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, ডঃ তারেক, উত্তম বণিক, রাজীব আহমেদ, জীবন শফিক, শাহাদাত হোসেন রাজু, নাসিম আহমদ, ছাইদুর খান ডিউক, এবিএম সিদ্দিক, আরশাদ খান, ফজলে রাব্বী রাজীব, তৌফিক মিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।