🕓 সংবাদ শিরোনাম

রোজিনার সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের জেলে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহকেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে যুবতীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারপাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে নারী ও শিশুসহ ২৪জন আটকসাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়: ভিপি নুরসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফআর এমন ভুল হবে না: নোবেলস্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন নিয়ে থানায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরাইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাস্তায় ঢাবি শিক্ষক সমিতিযমুনা নদীতে ডুবে তিন কলেজ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতাকে তথ্য চুরি বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুঃখ আর নেই’

  • আজ বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৯ মে, ২০২১ ৷

জাতিসংঘের ক্ষমতা গুটিকয়েক রাষ্ট্রের হাতে থাকায় সারা বিশ্ব তাদের কাছে জিম্মি - বান কি মুন


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  - বিদায় বেলায়  জাতিসংঘের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে মহাসচিব বান কি মুন বলেন  জাতিসংঘের  ক্ষমতা গুটিকয় রাষ্ট্রের হাতে কুক্ষিগত থাকায় সারা বিশ্ব ওই কয়েকটি রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি।

ban-ki-mun

জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব বান কি মুন বিদায় বেলায়, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া সবশেষ ভাষণে নিরাপত্তা পরিষদের সর্বময় ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন । জোরালোভাবে সামনে এনেছেন জাতিসংঘের সংস্কারের প্রশ্নটি। মুনের মতে, এই সংস্থার  বিশ্বের সব দেশের সম্মতিই যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। মুনের মন্তব্য, জাতিসংঘের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সংস্কারের কোনও বিকল্প নেই। পরবর্তী মহাসচিবকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৫ সালের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিতর্কের অন্যতম মূল এজেন্ডা নির্ধারিত হয়েছিল খোদ ওই সংস্থাটির সংস্কারের প্রশ্ন। ২০১৬ সালের সাধারণ অধিবেশনেও সেই সংস্কার প্রশ্নকেই আবারও জোরালো করলেন বিদায়ী মহাসচিব বান কি মুন। বান কি মুন বলেন, ‘জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এর বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য।’

জাতিসংঘ পরিচালনার নীতি অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের হাতেই এর সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত। যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ পরিষদের কোনও ক্ষমতা নেই। নিরাপত্তা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের রায়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া আর ফ্রান্সের ভেটো প্রদানের ক্ষমতা। চাইলেই একক একটি রাষ্ট্র যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদের এই সর্বময় ক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে বান কি মুন বলেন, ‘প্রায়শই আমি দেখেছি যে বিশ্বের বহু বহু দেশের সমর্থিত কোনও প্রস্তাব সাধারণ সম্মতির নামে গুতিকয় রাষ্ট্র বাতিল করতে পারে।’ ভেটো ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে মুন বলেন, ‘কখনও কখনও একটি রাষ্ট্রই অনেক দেশের সমর্থিত একটি প্রস্তাব বাতিল করে দিতে পারে।’ গুটিকয় রাষ্ট্রের সাধারণ সম্মতিকে কোনওভাবেই সর্বসম্মতি ধরে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে মুন বলেন, ‘যে বিশ্বসংস্থাকে নিয়ে আমাদের এতো আশা-আকাঙ্ক্ষা, তা ঠিক কেমন করে পরিচালিত হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে বিশ্বের সব মানুষের।’

জাতিসংঘে বিভিন্ন সময় আসা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি দেখছি প্রায়ই ঐক্য মতের নামে কয়েকটি কিংবা একটি দেশের কারণে ব্যাপকভাবে সমর্থিত প্রস্তাবগুলোও বাতিল হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন আসে এটি কী সঠিক? একটি দেশ কিংবা কয়েকটি দেশে মিলে ক্ষমতা কুক্ষীগত করে রাখবে। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখবে?’

বিশ্ব সংস্থাটির সংস্কারে পরবর্তী মহাসচিবকে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মুন। তিনি জাতিসংঘের মানবিক কর্শসূচিতে বিশ্বের সব দেশের সমন্বিত ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। কেউ যেন এ ধরনের কাজে বাধা সৃষ্টি না করে তার আহ্বানও জানান। ‘জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধ থাকা উচিত’ মন্তব্য করেন তিনি।