🕓 সংবাদ শিরোনাম

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জনের মৃত্যুচট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২৫, মৃত্যু ৪সুনামগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে মা ও ছেলেসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুসৌদি আসতে দিতে হবে করোনা ভ্যাকসিন, নয়তো থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনেএখনো ঈদ করতে বাড়ী আসছে দক্ষিনঅঞ্চলের ২১জেলার হাজার হাজার মানুষকরোনার হটস্পট কেরানীগঞ্জ, ঈদে ছাপ নেই স্বাস্থ্য বিধিরবস্তার দোকানে মাদকের ব্যবসা, দুই জন আটকডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তারভারত থেকে চট্টগ্রামে আসা ৪ জনের করোনা শনাক্ত ত্রিশালে পণ্য বিপনন মনিটরিং কমিটির মতবিনিময় সভা

  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

মুক্তিযুদ্ধে তিন ভাই আর বাবাকে হারানোর ব্যাথা নিয়েই বেঁচে আছি


❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৬ দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন আমার বয়স ছিল ১২ । আমার বাবার বয়স হয়েছিল কিন্তু আমার ভাইরা ছিল টকবগে যুবক । স্বাধীনতা যুদ্ধে সময় আর সবার মত আমার ভাইরা যোগ দিয়েছিল মুক্তি বাহিনীতে । দিনাজপুরে মুক্তিবাহিনীর এক মেজর যাকে সবাই পাগলা মেজর বলে চিনত তার হাত ধরেই আমার তিন ভাই মতিউর রহমান , মনসুর আলী , মোতাহারুল হক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় 

mukti
সময়টা আনুমানিক জুন / জুলাই হবে সেই সময় সেতাবগঞ্জে পাক বাহিনী ও বিহারীরা মিলে এলাকায় তাণ্ডব লীলা চালাতে থাকে ,বাঙ্গালীদের তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা , ধর্ষণ করা ছিল নিত্য ব্যাপার । আমার ভাইদের দায়িত্ব ছিল বিহারীদের উপর নজর রাখা । পরে দুই ভাই মতিউর রহমান ও মোতাহারুল হক সাদামহল , বোচাগঞ্জে বাংকারে যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন । আর এক ভাই মনসুর আলী পাক বাহিনীর কাউন্টার অ্যাটাকে শহীদ হন ।
আমার ভাইরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ায় আমারা বিহারীদের নজরে পরে যায় । আমার বাবা মৌলভি তমিজউদ্দিন আহমেদ জয়নন্দ বাজারে বাজার করতে গেলে সেখানে বিহারীরা আমার বাবাকে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেয় , দুই তিন দিন আটকে রাখার পর সেতাবগঞ্জ উপজেলার জালগাঁওের সামনে রাস্তার ধারে গুলি করে মারে । পরে আমি আমার বাবাকে খুঁজতে গিয়ে দেখি শয়ে শয়ে লাশ স্তুপ আকারে সেখানে পরে আছে । এর মধ্য থেকে অনেক কষ্টে বাবার লাশ শনাক্ত করি ।
দেশ স্বাধীন হয়েছে অনেক কাল হল কিন্তু এসব সৃতি যেন এখনও জীবন্ত লাগে । আমার ভাইরা শহীদ হয়েছে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে কিন্তু স্বাধীন দেশে তাদের পরিবারগুলো ভেসে গেছে । তাদের সন্তানরা অসহায় নিদারুন কষ্টে জীবন যাপন করছে । আমি সামান্য হোটেল ব্যাবসা করে এক ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি ।শহীদ ভাইদের মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য অনেক ছোটাছুটি করেছি সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে বাবা,তিন ভাইকে হারানোর কষ্ট আর দারিদ্রতা নিয়ে আমি মাজেদুর রহমান ও আমাদের পরিবার কোনরকম বেঁচে আছি।