কুড়িগ্রামে হাইকোটের আদেশ অমান্য করে বিলের মাছ ধরা অব্যাহত

⏱ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৬ 📁 দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড় বিলের উপর হাইকোটের স্থগীতাদেশ অমান্য করে একটি পক্ষ বিলটির মাছ ধরা অব্যাহত রাখায় দুই সমিতি সদস্যদের মধ্যে মারমুখি অবস্থান বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

kurigram

জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড় বিলের ইজারা নিয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ও নাগেশ্বরী ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বিদ্যমান রিরোধের জের ধরে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আকতার আলী বিলের উপর সকল কার্যক্রম স্থগীত চেয়ে মহামান্য হাইকোটে একটি রীট মামলা করেন। রীট মামলা নং ১০১৮০/১৬ ইং তাং ২২-৮-১৬।

রীট মামলাটি শুনানী করেন, বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ খসরুজ্জামান। শুনানী শেষে হাইকোট তিন মাসের জন্য বিলটির উপর সকল কার্যক্রম স্থগীত করে রুল নিশি জারি করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে রুলের জবাব দানের আদেশ দেন। হাইকোটের আদেশের প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক স্বারক নং ১০৮২ সুত্রে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠির মর্মানুযায়ী, ভুমি মন্ত্রনালয়র ২৭-৭-১৬ই তারিখের স্বারক নং ৩৯৪ মর্মে বিল সক্রান্ত যে আদেশ দিয়েছে তা হাইকোট স্থগীত করেছে মর্মে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দ্দেশ দেন। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রহস্যজনক ভাবে জেলা প্রশাসকের চিঠির কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় নাগেশ্বরী ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি পক্ষে বিল পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নুরুন্নবী মিয়া হাইকোটের আদেশ অমান্য করে গত ১৯-৯-১৬ থেকে তার লোকজন দিয়ে বিলটির মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে দুই সমিতির সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যে কোন সময় উভয় সমিতির লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে।

ভিতরবন্দ ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আকতার আলী জানান, সরকারী বিধিমতে যে ইউনিয়নের বিল সেই ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমিতি অগ্রাধিকার পাবে। ভাঙ্গামোড় বিলটি ভিতরবন্দ ইউনিয়নে অন্তভুক্ত সে কারনে আমরা ওই বিলের হকদার। নাগেশ্বরী মৎস্যজীবি সমিতি গায়ের জোড়ে বিলটি দখল করে খাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা হাইকোটে রীট মামলা করে তিন মাসের স্থীগতাদেশ পেয়েছি। কিন্তু নাগেশ্বরী মৎজীবি সমিতি হাইকোটের আদেশ অমান্য করে মাছধরা অব্যাহত রেখেছে। আমরা জীবনের বিনিময়ে হলো বাঁধা দিবো। নাগেশ্বরী ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি প্রফুল্ল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে ভাঙ্গামোড় বিল পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নুরন্নবী মিয়া জানান, মৎস্য অফিসের সঙ্গে বিল সংক্রান্ত যে চুক্তি হয়েছে তার মেয়াদ এখনও আছে। সে কারনে বিলের মাছ ধরছি। নাগেশ্বরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সারোয়ারজ্জান বলেন, আমি হাই কোটের আদেশের কথা শুনেছি তবে হাতে পাইনি।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ‘মৎস্য মন্ত্রনালয় থেকে বিল ইজারার যে আদেশ দিয়েছে মহামান্য হাইকোট তা স্থগীত করেছে। সে সুত্রে জেলা প্রশাসক বিলটি খাস কালেকশনের জন্য আমাকে আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য অফিস নাগেশ্বরী ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নিকট থেকে বিলের লিজমানী নিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাছ ধরার অনুমতি দিয়েছে। আমি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ডিসি স্যারকে দিবো’।