নবীগঞ্জে প্রেম সংঘটিত কারনেই বলি হলেন কলেজ ছাত্রী তন্মী রায় : মামলা দায়ের

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৬ দেশের খবর, সিলেট

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জের বরাক নদী থেকে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্ধি অবস্থায় কলেজ ছাত্রী তন্মী রায় (১৮)’র লাশের ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বুধবার বিকালে জয়নগর শশ্মানঘাটে চাপা মাটি দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহত তন্মী রায়ের পরিবারসহ শিবপাশা ধান সিড়িঁ (শ্যামলী) আবাসিক এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

toniray

অনেকের বাসায় ঠিকমতো চুলায় আগুন দিচ্ছেন না। যেন শোকে পাথর হয়ে বসেছেন ওই এলাকার জনপদ। এছাড়া নিহত তন্মী রায়ের পিতা বিমল রায় বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞানামা আসামীদের একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ নিহত তন্মীর মোবাইল কল লিষ্ট সংগ্রহসহ জোর তদন্ত শুরু করেছে। সন্ধিগ্ধ আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ২/৩ দিনের মধ্যেই নির্মম এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোবারক হোসেন জানিয়েছেন। এছাড়া কথিত প্রেমিক রানু রায় ও তার পরিবার বাড়ির ফটকে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা রয়েছে। কলেজ ছাত্রী তন্মী রায়ের নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার পুর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, নবীগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত শনিবার বেলা দেড় টার দিকে তন্মী রায় ইউ কে আই সিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেড় হয়ে আর ফিরেনি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করার ৩ দিনের মাথায় উক্ত কলেজ ছাত্রী তন্মী রায়ের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে ইউ কে আইসিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে কথা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ফয়ছাল আহমেদের তিনি জানান, ৬ মাসের কম্পিউটার র্কোসে তন্মী রায় বিগত ২৭ জুলাই ভর্তি হয় ওই সেন্টারে। সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করতো তন্মী রায়। সর্ব শেষ ১০ সেপ্টেম্বর ক্লাশ করে তন্মী রায়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইসিটি সেন্টারে ক্লাশ করার কথা বলে বাসা থেকে বের হলেও তন্মী রায় ওই দিন ক্লাশে যায়নি বলে জানান প্রিন্সিপাল ফয়ছাল।

তবে গতকাল বিকেলে ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় অনেক লোক জানান, শনিবার সন্ধার সময় তন্মী রায়কে জয়নগর সড়কে রানু রায়ের বাড়ী যেতে দেখেছেন। এদিকে, কথিত প্রেমিক রানু রায় এর বাড়ি গেলে ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়, তাদের প্রতিবেশী এক মহিলা জানান, রানুকে ২ থেকে ৩ দিন ধরে দেখেননি এবং মঙ্গলবার সকালে রানুর বাবা ও মা ডাক্তারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। এখনও ফিরেননি।

এ ব্যাপারে অফিসার ইনর্চাজ মোঃ বাতেন খান বলেন, মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। অনুমান ৩ দিন বা অধিক সময়ের শরীরে ফোলা, পচন ও মুখ মন্ডল বিকৃত অবস্থায় ১৯/২০ বছরের মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তার পরিবার-পরিজন ভাই ও বাবার সনাক্তমতে ছুরতহার রির্পোট তৈরীসহ আলামত জব্দ করা হয় এবং ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় মেযেটির নাম তন্মী রায় পিতা বিমল রায়, পৌরসভার শ্যামলী (ধান সিড়ি) আ/এ বাসিন্দা ও নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে বলে জানা যায়।

উক্ত তন্মী রায় গত ১৭ সেপ্টম্বর দুপুরে ইউ কে আইসিটি সেন্টারে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় তার পিতা থানায় নিখোজঁ সংক্রান্ত জিডি করেন। উক্ত জিডির প্রেক্ষিতে পুলিশ সকল প্রকার আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহন কালে মঙ্গলবার উল্লেখিত সময় ও স্থান থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, এটা একটি নিঃসন্দেহ নির্মম হত্যা কান্ড বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণ করা হচ্ছে। প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা সংঘটিত হতে পারে বলেও ধারনা করেন তিনি। ওসি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যাকারী যেই হউক তদন্ত সাপেক্ষে সন্ধিগ্ধ ও জড়িতদের গ্রেফতারসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনাও করেন তিনি।

অপর দিকে গতকাল বুধবার রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী নিহত কলেজ ছাত্রী তন্মী রায়ের বাসায় গিয়ে নিহতের পিতা-মাতা, ভাইসহ স্বজনদের শান্তনা দেন। এ সময় তিনি তন্মী রায়ের নির্মম হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রী তন্মী রায়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার পুর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন সাবেক মেয়র এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী।