প্রমাণ কী? মস্কোর দাবি, হামলার আগে ও পরের সবটাই ধরা পড়েছে তাদের ড্রোন-ক্যামেরায়। তাতে নাকি অনেক ক্ষণ কনভয়ের পিছু নিতে দেখা গিয়েছে আইএস জঙ্গিদের। যে সম্ভাবনা আজ বানচাল করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস। তাঁর কথায়, ‘‘মার্কিন সেনা জোট, রাশিয়া কিংবা সিরীয় সেনা— হামলা যে কেউ করে থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের বিমান আলেপ্পোর আকাশে ওড়ে না। ওখানে জঙ্গিদের অস্তিত্বই নেই। তাই সিরীয় সেনা আর রাশিয়াকেই জবাব দিতে হবে।’’

বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে মার্কিন বিদেশসচিব জন কেরির সঙ্গে কথা বলেছেন রুশ কর্তারা। অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করেছে মস্কো। তবে সূত্রের খবর, কনভয়টি আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে ঢোকার পর কোনও ড্রোন-ফুটেজ মেলেনি।

জুতসই প্রমাণ না থাকায় রাশিয়াও দোষারোপের পথে। শনিবার সিরিয়ার দেইর আল জৌর শহরে মার্কিন বিমান হামলায় ৬২ জন সিরীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। তার থেকে নজর ঘোরাতেই ওয়াশিংটন কনভয়ে হামলার পিছনে রাশিয়াকে দুষছে বলে মত তাদের।

হামলার পিছনে যে-ই থাক, ‘কাপুরুষোচিত এই যুদ্ধাপরাধের’ জেরে সিরিয়ায় ত্রাণ পাঠানো বন্ধই রাখতে চাইছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। যুদ্ধবিরতি বানচালের পরে সিরিয়া তাই অাধাঁরে।  কাল রাতেও আলেপ্পোর কাছে খান তুমান গ্রামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিমান হামলার খবর মিলেছে। মারা গিয়েছেন চার স্বাস্থ্যকর্মী। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হামলায় ভবনের তিনটি তলাই ধুলোয় মিশে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে বহু। সিরিয়ায় গত এক বছরে শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই ১৩৫টি হামলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও সব চেয়ে বিপজ্জনক দেশ এখন সিরিয়া।

আমেরিকা সিরিয়া থেকে যুদ্ধবিরতি ওঠার কথা মানতে নারাজ। একই অবস্থান রাশিয়ার। শুক্রবার ফের সব পক্ষের আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন জন কেরি।